ক্যাম্পাসে বাউলশিল্পী নামেই পরিচিত ফতেহ আলী খান আকাশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ পর্বের শিক্ষার্থী তিনি। লোকসংগীতের অন্যতম তীর্থভূমি মানিকগঞ্জের সন্তান হলেও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। পরিবার থেকেই সংগীতে ভালোবাসা ও ভালোলাগা শুরু থেকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই শুনতেন শিল্পী মমতাজ ও রশিদ উদ্দিনের গান। মায়ের ইচ্ছা ছিল আকাশ গান করবেন টেলিভিশনে, মঞ্চে। ছুটে বেড়াবেন দেশের নানা প্রান্তে। বাবাও একসময় পল্লীগীতি গাইতেন। দশ ছুঁইছুঁই আকাশের সংগীতের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় পুরান ঢাকার বাউল শিল্পী ওস্তাদ আনসার আলী দেওয়ানের হাত ধরে। সা রে গা মা থেকে শুরু করে লোকজ সব ধরনের গানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখান থেকেই। স্কুল-কলেজেও লোকজ গানেই মাতিয়ে তুলতেন। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন লোকজ গান গেয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়ে সংগীতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো আকাশের। চারুকলা ও সংগীত বিভাগের কয়েকজন মিলে প্রায়ই গানের আড্ডা বসাতেন ক্যাম্পাসে। আড্ডা থেকেই উদ্ভব হয় ব্যান্ড তৈরির চিন্তা। গঠন করেন ব্যান্ড ‘মনের মানুষ’। ক্যাম্পাসের বসন্তবরণ উৎসবে গানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় এই ব্যান্ড। ছোট থেকে তেমন কাউকে অনুসরণ না করলেও বাউলশিল্পী শাহ আব্দুল করিম ও শাহ ফকির লালনকে লোকসংগীতের গুরু হিসেবে মানেন এবং শ্রদ্ধা করেন। তবে প্রায়ই শুনতেন মমতাজ ও আবুল সরকারের গান। এখন গান গাওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া পুরনো গান সংগ্রহেও কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশের লোকজ গানকে নতুন প্রজন্মের সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। কাজ করার পরিসর বেড়েছে আকাশের। রয়েছে তার সাংগঠনিক পরিচয়। গান গাওয়ার পাশাপাশি যুক্ত আছেন উদীচীর সঙ্গে। দায়িত্ব পালন করছেন উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির। দায়িত্ব পেয়েছেন জবি ব্যান্ড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকের। ব্যতিক্রম ও ইতিবাচক যেকোনো বিষয়ের অংশ হতে ভীষণ আগ্রহী আকাশ। ভালো কিছু করার ইচ্ছা থেকেই করোনা মহামারীর সময় হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের আহ্বানে রোগীদের গান শুনিয়েছিলেন আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও। রোগীদের মনোবল বাড়াতে আয়োজন করেছিল এই বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র।
গানের জগতের এত সাফল্য পেলেও, জানেন যেতে হবে আরও বহুদূর। একটিই দুঃখ, মা দেখে যেতে পারলেন না আকাশের সাফল্যÑ যার অনুপ্রেরণায় আজ তিনি সবার আকাশ।