ক্যাম্পাস শব্দটা প্রথমে জেনেছি বই বা সিনিয়র ভাইবোনদের মাধ্যমে। ক্যাম্পাসজীবনের প্রথম দিনটি থাকে চির অমøান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস বলে কথা, আগের রাতে ঠিক ভালো ঘুম হয়নি। ভোরবেলায় মৃদুমধুর শন শন বাতাস! রিকশা নিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম। একদিকে আনন্দ আর ওপর দিকে ভয়। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর সবার উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকে। সে আগ্রহটা আমার খুব ছোট থেকে ছিল। ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে সবুজ বাগান, পাখির কিচিরমিচির ও ফুলের সুগন্ধি পাওয়া যায়। নতুন জায়গা, একটু ভয় ভয় লাগছে। সবাই অপরিচিত মুখ।
নব্য শিক্ষার্থীরা পরিচিত হলাম একে অপরের সঙ্গে। প্রথম দিনেই পেয়েছিলাম প্রচুর বন্ধু। ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নেন শিক্ষকরা। ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র শিক্ষকরা নিজেদের পরিচয় দিলেন। কী কী কোর্স পড়ানো হবে সেগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা দিলেন। ক্যারিয়ারে জীবন কীভাবে উন্নতি করা যায় সেগুলো নিয়ে স্যার-ম্যামরা আলোচনা করলেন। তারা ছিলেন খুব আন্তরিক। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু সংগঠন আছে, সেগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন শিক্ষকরা। ডিপার্টমেন্টের সিনিয়ররা পরিচিত হলেন। ইউনিভার্সিটি ফোরামের পক্ষ থেকে কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। তারা বললেন, ‘ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন ফোরাম আছে, যা তোমাদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বাড়বে। চাইলে অংশগ্রহণ করতে পারবে।’ শেষে বক্তব্য রাখেন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান স্যার। তিনি ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে আলোচনা করেন ও বইপড়া সম্পর্কে উৎসাহিত করেন। তারপর ক্যাম্পাসের মাঠে এবং পুরো ক্যাম্পাসে দলবেঁধে ঘোরাঘুরি। কামিনির গন্ধে অলস দুপুরের আড্ডা, ক্যানটিনে খাওয়া, দলবেঁধে গান গাওয়া। ক্যাম্পাসের পেছনে ছোট একটা জায়গা আছে। সেখানে বাস্কেট বল ও ক্যারম বোর্ড খেলা হলো, বন্ধুদের বার্থডে পালন করা হলো। আর সবাই মিলে সন্ধ্যায় মামার চা। প্রথম দিনের সমাপ্তিটা অসাধারণ ছিল।
আহমদ মানিক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ