ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে চালকদের বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও মালিকরা। ট্রাফিক সার্জন মামুন খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে গতকাল রবিবার সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-কমলনগর-রামগতি সড়কের তেওয়ারীগঞ্জ মিয়ার বেড়ি সড়কে অবস্থান নেন চালকরা। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে সিএনজি বন্ধ রাখলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

চালক-মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ট্রাফিক পুলিশ এখন চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জেলা ট্রাফিক সার্জন মামুন খন্দকার যোগদানের পর অটোরিকশা ছাড়ের ফি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও সড়কে গাড়ি চালাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশকে ভর্তির নামে একসঙ্গে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং টোকেনের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা প্রদান করতে হয়। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিবর্তনের কারণেও তাদের অর্থ দিতে হয়। নতুন করে আটক বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। ১৫/২০ দিনÑ অনেক সময় মাসাধিক সময় ঘুরেও সর্বস্ব খুইয়ে ক্রয় করা রিকশা ছাড়াতে পারছেন না গরিব চালকরা। ওদিকে সুদে আসলে কিস্তির ঘানিও টানতে হচ্ছে তাদের। পুলিশ একবার কোনো কারণে গাড়ি আটকালে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা দিতে না পারলে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। মামলা থেকে গাড়ি ছাড়াতে পনের থেকে বিশ হাজার টাকা লাগে।

চালকরা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের এসব হয়রানি ও মাসিক টোকেনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের আইজিপি ও ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু সেই অভিযোগের এখনো তদন্ত হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীকে থানায় ধরে এনে মামলা দেওয়ার হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশ মামুন খন্দকারের বিরুদ্ধে।

মো. ফারুক নামে এক সিএনজি চালক বলেন, ‘গাড়ির সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও মাসিক হিসেবে তিনশ টাকা দিতে হয় পুলিশকে আর ভর্তির জন্য একসঙ্গে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা। টাকা দিতে দেরি হলে মামলা দেয় এবং গাড়ি আটকে রাখা হয়।’

অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মামুন খন্দকার বলেন, ‘চালকদের এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি আমার দায়িত্ব পালন করি। সড়কে চালকরা আইন না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’