‘ফুটবলারদের আরও বেশি প্রাপ্য’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আশাতীত ভালো পারফরম্যান্সে সবাইকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। যে আসরে বাংলাদেশ ছিল আন্ডারডগ, সেই আসরেই সেমিফাইনাল খেলে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছিল ফুটবলাররা। তাতে ভীষণ খুশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি সাফের প্রধান। বাফুফে বলেন কিংবা সাফ, সালাউদ্দিনের জমানায় বাংলাদেশ এর আগে কখনই সাফের সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি। এবার সাফের বাইরের দুটি দলকে আমন্ত্রণ জানানোয় এমনিতেই কাজটা আরও কঠিন ছিল। তবে হাভিয়ের কাবরেরার দল অন্য ব্র্যান্ডের ফুটবল খেলে ১৪ বছর পর বাংলাদেশকে নিয়ে যায় শেষ চারে। তবে ১৮ বছর পর সাফের ফাইনাল খেলা হয়নি তাদের। দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের গোলে হার মানতে হয় প্রবল প্রতিপক্ষ কুয়েতের কাছে। তারপরও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিটা দিয়েছেন সালাউদ্দিন। গতকাল তিনি দলের ৩৪ সদস্যের প্রত্যেককে দিয়েছেন দেড় লাখ টাকার একটি করে চেক। এছাড়া তিনজন ফুটবলারকে সালাউদ্দিন নিজের পক্ষ থেকে দিয়েছেন বাড়তি বোনাস।

ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে মাথা উঁচু করে জাতীয় দলের সদস্যরা দেশে ফিরেছিলেন গত ৩ জুলাই। চারদিন পর তাদের ডাক পরে বাফুফে ভবনে। কারণ সালাউদ্দিন ভুটানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে সেমিফাইনালে পা রাখলে দলকে বোনাস দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই সালাউদ্দিন ছোট্ট আয়োজনে খেলোয়াড়দের প্রশংসার পাশাপাশি শুনিয়েছেন অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী কথা। বাফুফের পক্ষ থেকে ৫১ লাখ টাকা বোনাস দেওয়ার পাশাপাশি সালাউদ্দিন তিন ফুটবলারকে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা করে বোনাস দিয়েছেন। সাফের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হওয়ায় আনিসুর রহমান জিকোকে ১ লাখ টাকা দেন বাফুফে বস। আর তরুণ প্রজন্মের অগ্রপথিক হিসেবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকেও দেন সমান অর্থ। তবে বিশ্বনাথ ঘোষের জন্য সালাউদ্দিনের পাঁচ লাখ টাকার উপহারটা ছিল অনুষ্ঠানে বড় চমক। এই রাইটব্যাক সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগমুহূর্তে ঘোষণা দেন দল ফাইনালে উঠলেই পাঁচ লাখ টাকা দেবেন। সেই ঘোষণা সালাউদ্দিনের কানে এলে তিনি বিস্মিত হন এবং বিশ্বনাথের হাতে পাঁচ লাখ টাকা নগদ তুলে দেন।

দীর্ঘ বক্তৃতায় খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেন সালাউদ্দিন। এই খেলোয়াড়দের ওপর অনেক আগে থেকেই আস্থা ছিল তার। সেই কথাই আবার বলেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, অচিরেই এই দলটি সাফ চ্যাম্পিয়ন হবে, ‘আমরা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। আমরা যে পথে আছি, আগামী বছর দুয়েকের মধ্যেই আমরা নিজেদের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে পাব। আমি দলের খেলায় খুবই সন্তুষ্ট। দলের খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছে তারা ভালো ফুটবল খেলতে পারে। তারা কোয়ালিটিফুল ফুটবল খেলতে পারে। আমরা হয়তো দুটো ম্যাচ হেরেছি তবে আমরা লড়াই করেছি। এটা আমাদের নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফুটবলাররা আমাকে কথা দিয়েছিল শতভাগ উজাড় করে খেলবে। সেই কথা তারা রেখেছে।’

জিকো টুর্নামেন্ট সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হওয়ায় সালাউদ্দিন তাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। এছাড়া তরুণ ফুটবলারদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘জিকো টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। কিছু নতুন খেলোয়াড় দারুণ পারফরম্যান্স করেছে। লেফটব্যাকে ইসা (ফয়সাল) ছিল অসাধারণ। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে তপু এবং তারিক কাজী দারুণ পারফরম্যান্স করেছে। চোট পাওয়া সত্ত্বেও দারুণ খেলেছে তারিক। মিডফিল্ডে দুই সোহেল রানা তাদের কাজ দারুণভাবে করেছে। তিন তরুণ ফুটবলার ফাহিম, মোরসালিন এবং হৃদয়- এরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ। তাদের পারফরম্যান্সে আমি দারুণ সন্তুষ্ট। এছাড়া আমরা একজন সুপারস্টার পেয়েছি, রাকিব। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একজন ফরোয়ার্ড সে। যদি সে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে পারে তবে সে আরও ভালো হতে পারবে। দেশের সর্বকালের সেরা ফরোয়ার্ড হওয়ার সক্ষমতা তার আছে।’

এই দলটাকে ১৯৭৩ স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম জাতীয় দলের সঙ্গে তুলনা করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলাদেশ খেলতে যায় থাইল্যান্ডের সঙ্গে। আমরা থাইল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিলাম। ঐ দলের পরে এটাই সম্ভাব্য সেরা দল। এই দলের খেলা দেখার পরে সবাই প্রশংসা করেছে।’ বোনাস আরও বেশি দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন সালাউদ্দিন। সেই সঙ্গে নিজের অক্ষমতার কথাও জানান। তবে কথায় ঠিকই ফুটবলারদের খুশি করেছেন তিনি, ‘আমি দুঃখিত যে এত অল্প পয়সা দিচ্ছি। আমার কাছে থাকলে আমি আরও দিতে পারতাম। এটা একটা টোকেন মানি। তোমরা আরও বেশি প্রাপ্য। কিন্তু আমার ক্ষমতায় নেই। তবে তোমাদের খেলা দেখে ভবিষ্যতে আরও খেলোয়াড় তৈরি হবে। তোমাদের কর্তব্য ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের জন্য স্থান তৈরি করে দেওয়া।’

সালাউদ্দিনের কাছ থেকে বোনাস পেয়ে খুশি ফুটবলাররাও। তারা এটাকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন এবং কথা দিচ্ছেন আরও ভালো খেলা উপহার দিয়ে দেশকে কিছু এনে দেওয়ার।