মনোবল বাড়াতে শেষ ম্যাচটা জেতা দরকার

আমার মনে হয় তামিমের অবসরের সঙ্গে সিরিজ হারের ব্যাপারটা একেবারে ভিন্ন। তামিম অধিনায়ক ছিল, ওপেনারও ছিল; এখন সে যদি ইনজুরিতে পড়ত তাহলে এমনিতেও অন্য একজনকে একাদশে রাখতে হতো। তামিম যা করেছে এটার সঙ্গে দলের বাকি ক্রিকেটারদের কোনো সংযোগ নেই। বাকি যারা ক্রিকেটার আছে ওরা ম্যাচে নামলে কেন একশ মারবে না, ৫ উইকেট মারবে না। বিষয়টা হলো এত বাজে বল করলে কীভাবে হবে। ম্যাচে আমাদের বোলাররা একদম খাঁটি বাংলায় বললে এত বে-লাইনে বল করছিল যে ওদের দুই ব্যাটার ইচ্ছেমতো যে কোনো শট খেলতে পারছিল। এত সুযোগ দিলে কেন অন্য দল নেবে না। তো বোলিং যখন এত খারাপ হয়ে গেছে তখন ব্যাটিং দিয়ে হয়তো কাভার করা যেত কিন্তু অতিরিক্ত রান হলে চাপ তো পড়বেই।

হারটা বাজে পারফরমের জন্যই হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে তামিম ইস্যুতে দল মনঃসংযোগ হারিয়েছে। কিন্তু আমি সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে মনে করি এটা সম্ভব না। আমার দলের ভেতরের পরিবেশ দেখার অভিজ্ঞতা আছে। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যে, আমরা সবাই দেখি ১১ জন খেলে কিন্তু পারফরম ব্যক্তিগতই করতে হয়। যে কোনো ক্রিকেটার ম্যাচে নামার পর ভালো করতে চায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ওই ব্যাপারটা হয়নি। এখন একজনের পেট ব্যথা থাকলে তো পুরো দলের পেট ব্যথা না। এটা বোলিং খারাপের কারণে হয়েছে। দল জিতলে এরকম কথা উঠত না।

দেখেন কিছুদিন আগে কিন্তু টেস্টে আফগানরা নাকানি-চুবানি খেল। ওরাই আবার টি-টোয়েন্টিতে অন্যতম সেরা দল। ওয়ানডেতে আরেকটু কম শক্তির হয়তো। এখন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভালো দুটো সিরিজ কাটানোর কথা আসতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো যখন কালকের মতো ভালো উইকেটে এত বাজে বল করবেন ওদের ব্যাটারদের এত সহজ করে দেবেন তখন ওরা তো মারবেই। ওরা খেলেই মারকাটারি ক্রিকেট, ওদের ওই সুবিধা দিয়ে দিলে ভালো করবেই। এটা বাংলাদেশকে আরও সতর্ক হয়ে বল করা উচিত ছিল।

এই সিরিজের হার এশিয়া ও বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে না। ওগুলো আলাদা টুর্নামেন্ট। তখন চিন্তাটা ভিন্ন থাকবে। এখন সিরিজে দুটো ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের মনোবল একটু দুর্বল হয়েছে। কিন্তু  টুর্নামেন্টের আগে তো এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকছে। আর টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলোতে আফগানদের নিয়ে একটু ভয় থাকবেই। কারণ ওরা তো আন্ডারডগ দল। নিচের দিকের দলের সঙ্গে খেললে যেমন অস্ট্রেলিয়া-ভারত একটু চাপে থাকে হারার সেই রকম হবে। বড় দলের চাপ থাকে যে হারলে কী হবে! যেমন ভারত বাংলাদেশের কাছে হেরে গেলে কত বড় একটা খবর। ওই রকম হবে। এখন বাংলাদেশের জন্য খুব জরুরি তৃতীয় ম্যাচটা জিতে মনোবল একটু ফিরিয়ে আনা যেন এশিয়া ও বিশ্বকাপে ভালো কিছু নিয়ে যাওয়া যায়।