দুদিনের বিশ্রামটা তাহলে বৃথা যায়নি। খেলায় বিশ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। মন ও মাথা বিশ্রাম পেলে শুরু থেকে চিন্তা করা যায়। সঠিক চিন্তায় নিজের কাজটা ঠিকঠাক করা যায় মাঠে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই পরাজয়ে সিরিজ হারানোতে বাংলাদেশ দলের মনোবলে বড় আঘাত লাগে। তাই দ্বিতীয় ওয়ানডের পর বিশ্রামে ছিল দল। এরপর সোমবার বৃষ্টিতে প- হয় দলের অনুশীলন। তাতে ব্যর্থতা ভুলে নিজেদের মতো সময় কাটিয়ে পুনর্গঠিত হতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। টিম হোটেলে লম্বা সময়ের টিম টক হয়েছে। তার ফল দেখা গেল মাঠে। ম্যাচের আগে যাদের দায়িত্ব থাকল (ব্যাটার-বোলার) তারা নিজেদের কাজটা করলেন দারুণভাবে। পিচ যেমনই থাকুক বিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে তাতে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ। সঠিক জায়গায় আঘাত করে নতুন বলে বাউন্সার করে গেছেন দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। আর তাতে প্রথম দুই ম্যাচের ছন্নছাড়া বোলিং উজ্জ্বল হলো। পথ হারাল আফগানিস্তান। সিরিজের শেষ ম্যাচে স্বস্তির জয়ে মনোবলও ফিরে পেল বাংলাদেশ।
পেস বিপ্লবে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ গত কিছুদিনে বাউন্সকে নিজেদের সেরা অস্ত্র বানিয়ে নেয়। গতি ও বাউন্সে হোম ও অ্যাওয়েতে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডকে একরকম উড়িয়ে দিয়েছিল। টেস্টে আফগানদের ওই একই অস্ত্রে ঘায়েল করা গেছে। কিন্তু ওয়ানডেতে হঠাৎ ছন্দ হারায় বাংলাদেশের বোলিং। আফগানদের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার চাপ হয়তো আত্মবিশ্বাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ পেসারদের। তাই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ভুল লাইন-লেন্থে বল করছিলেন সবাই। পেসারদের ব্যর্থতা মহামারী হয়ে কাবু করে স্পিনারদের। দুই ম্যাচেই নিজেদের মধ্যে ছিলেন না বোলাররা। অবশেষে কাল স্বরূপে ফিরেছেন বোলাররা। বোলিং আক্রমণ পরিবর্তন করে তিন পেসার থেকে দুই পেসারে আনা হয় কম্বিনেশন। আর হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলামকে। শরিফুলের নেতৃত্বে নিজেদের সেরা বোলিং পারফরম ফিরিয়ে আনলেন বোলাররা।
আফগানিস্তানের ইনিংসের মধ্যে বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড জানান, বোলাররা ভালো করায় সবচেয়ে স্বস্তিতে আছেন তিনি। জয়ে ফিরতে টিম হোটেলে গুরুত্বপূর্ণ টিম টক করেছিলেন ম্যাচের আগের দিন। সেটাই উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, ‘খুবই স্বস্তিদায়ক পারফরম্যান্স করেছে বোলাররা। আমি নিজে এখন স্বস্তিতে আছি। দুটো দিনের বিশ্রাম সত্যিই কাজে দিয়েছে। আমরা কাল টিম হোটেলে শুরুর পাওয়ার প্লেতে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে ভালো টিম টক করেছিলাম। সেটা খুব কাজে দিয়েছে। বোলাররা বুঝেছে তাদের কী করতে হবে।’ ডোনাল্ড জানান সঠিক জায়গায় সফলভাবে বাউন্স দিতে পারায় এ সাফল্য এসেছে, ‘আমার মনে হয় পেসাররা তাদের মানসিকতা বদলেছে। আমাদের চিন্তা ছিল রক্ষণাত্মক মানসিকতা যেন না আসে। আক্রমণাত্মক মানসিকতায় সঠিক জায়গায় বল ফেলে বাউন্স আদায় করতে চেয়েছি। প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে বোলাররা যা করতে চেয়েছিল তা ঠিকভাবে করতে পারেনি। বাজে জায়গায় বল পড়ায় সঠিক বাউন্সটা পাওয়া যায়নি। আজ সেসব জায়গায় আমরা টিক দিয়েছি। খুবই কার্যকর বোলিং পারফরম্যান্স। এটা আমাদের সামনের দুটো টুর্নামেন্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সাহায্য করবে।’
দলে ফিরে এমন পারফরম করে ম্যাচ সেরা হওয়া শরিফুল দলকে জেতাতে পেরে খুশি। ম্যাচ শেষে জানাচ্ছিলেন নিজেদের ফিরে আসার পেছনের কারণ কোচদের পরামর্শ ও পরিশ্রম, ‘ভালো লাগছে, কিছুদিন ধরে ভালো কাজ করছিলাম। আজ সুযোগ পেয়ে সবার সমর্থনে ভালো করতে পেরেছি। ডোনাল্ড ও হাথু স্যার আমাকে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর কিছু বাড়তি কাজ করতে বলেছিলেন। আমি অনুশীলনে সে কাজ করেছি। আজ ম্যাচে কাজে লাগিয়েছি।’ তাসকিনের সঙ্গে জমে যাওয়া বোলিং জুটির কথাও জানাচ্ছিলেন শরিফুল, ‘বোলিং জুটিটা যখন ভালো যায় তখন চেষ্টা বেড়ে যায় যে আরও দু-তিনটা ওভার ভালো করা যাবে। আজ তাসকিন ভাইও অপর প্রান্ত থেকে ভালো করায় আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।’