মাঠে সাকিব আল হাসানদের উপস্থিতি, মানে সিলেটের গ্যালারি দর্শক ভর্তি। অথচ গত মার্চেই ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গেছে দর্শক খরা। আয়ারল্যান্ড সিরিজে টিকেটের জন্য ছিল না সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়। কালোবাজারিদের সেবার মাথায় হাত পড়েছিল। তবে চার মাস পর আবারও সিলেটে ফিরেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। গ্যালারিতে ফের দর্শকদের জোয়ার উঠবে।
২০১৩ সালের বিজয় দিবস কাপ টি-টোয়েন্টি থেকেই দর্শক ভর্তি গ্যালারি দেখে আসছেন স্থানীয়রা। ঘরোয়া ক্রিকেটেও টিকেটের জন্য হাহাকার দেখা গিয়েছিল এক দশক আগের চার দলের সেই টুর্নামেন্টে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিলেটের মাঠের অভিষেকের পরও। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা বিপএল! সবসময় ছিল দর্শকদের উপচে পড়া উন্মাদনা।
অথচ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই কিনা গোটা একটা সিরিজ শেষ হয়েছে দর্শক খরার মধ্য দিয়ে। এ বছরের মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হয় সিলেটে। সেখানে একটি ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। তবে সেই ম্যাচে দেশের ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হন মুশফিকুর রহিম। টাইগাররা পায় এই সংস্করণে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পরে সিরিজটি জিতে ২-০ ব্যবধানে।
কিন্তু গোটা সিরিজেই গ্যালারিতে ছিল হাহাকার। বেশিরভাগ চেয়ারই ছিল ফাঁকা। অন্যান্য সময় টিকেট কালোবাজারিদের রমরমা ব্যবসা হলেও, সেই সিরিজে তাদের মাথায় ছিল হাত। কারণটা নাকি রমজান মাসের ঠিক আগে আগে অফিস খোলার দিনগুলোতে খেলা থাকায়। সেটাও আবার ভর দুপুরে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক ফরহাদ কোরেশীও মনে করেন সেটাই। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ঐ সময়টা ছিল রমজান মাসের ঠিক আগে আগে। তখন সিলেটের মানুষ নানান পারিবারিক ও সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া সব খেলাই চলছিল অফিস চলার সময়ে। সবাই তখন যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আর সারাদিন অফিস করে সন্ধ্যায় ক্লান্তি নিয়ে খেলা দেখতে কেউ আর আসেননি। আয়ারল্যান্ড সিরিজে দর্শক না হওয়ার অন্যতম কারণ সময়টাই।’
স্থানীয়দের কাছে আয়ারল্যান্ড অপরিচিত একটি দল, সেটাও দর্শক না থাকার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন ফরহাদ, ‘আয়ারল্যান্ড দলটিতে তারকা খেলোয়াড় খুব একটা নেই। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই অচেনা। তাই এখানকার দর্শকদের খুব একটা টানতে পারেনি।’
তবে এবার আবারও চির চেনা দৃশ্যে দেখা যাবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে। যার আভাস মিলেছে ম্যাচের আগের দিন টিকেট কাউন্টারে চোখ বুলাতেই। স্থানীয় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে কাউন্টারের লাইনে। সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকায় দেখা যাবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা। তবে এই খেলায় মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকার কারণ, সময়।
এবার আর ভরদুপুরে কোনো খেলা নেই। সিরিজের দুটি টি-টোয়েন্টির প্রথমটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। সেটাও আবার ছুটির দিন শুক্রবারে। তাই গ্যালারি যে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও প্রত্যাশিত দর্শক ছিলেন না। উল্টো গ্যালারির পুরো একটা অংশ দখল করে রেখেছিলেন রশিদ খানদের ভক্তরা। চট্টগ্রামের স্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন অনেক আফগানিস্তানি। তারাই মাঠে হাজির হয়েছিলেন। তারা গ্যালারিতে বসে উদযাপন করেছেন মোহাম্মদ নবিদের সিরিজ জয়।
তবে ভেন্যু বদলের সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে সংস্করণও। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আবার আফগানরা বিশ্বসেরা দলদের একটি। তবুও বর্ষাকালের ছুটির দিনের সন্ধ্যায় চার-ছক্কার বৃষ্টি দেখতে দর্শকরা মাঠমুখি হবেন বলে প্রত্যাশা টাইগারদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানেরও।
আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে। আমাদেরকে সমর্থন করবে তারা। অবশ্যই তারা মাঠে আসবেন।’