চেয়ারম্যানপুত্র রিফাতসহ ১৭ আসামি অধরা

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক নাদিম হত্যাকান্ডের একমাস পেরিয়ে গেলেও এই হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর ছেলে রিফাতসহ ১৭ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করেছে। তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ ৩ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৭ জুন সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বকশিগঞ্জ থানায় মাহমুদুল আলম বাবু, তার ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাতসহ ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। পুলিশ এজাহারভুক্ত আর কোনো আসামি ধরছে না। এদিকে মামলার প্রধান আসামি জামিনের জন্য বারবার আবেদন করছে। সে যদি জামিনে মুক্ত হয়, তাহলে আর আমাদের আর রক্ষা নেই। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশ বলছে, তারা নাকি আসামি ধরার চেষ্টা করছে। কীভাবে তারা চেষ্টা করছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

গত ১৯ জুন মামলাটি জামালপুর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জামালপুর ডিবি পুলিশের ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, ‘আসামি আটকের জন্য অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। এ মামলার সব আসামিকে আটক করা হবে। নাদিমের ওপর হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ প্রথমে ৯ জনকে আটক করে। মামলা হওয়ার আগেই পঞ্চগড় থেকে প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। ওই দিন বিকেলে বগুড়া থেকে আরও একজনকে র‌্যাব আটক করে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রধান আসামিসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু, রেজাউল করিম ও মো. মনিরুজ্জামান ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি নাদিম গত ১৪ জুন রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পৌর শহরের পাটহাটি মোড় এলাকায় মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।