বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলা ও দুধকুমারের পানি। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলসহ চরাঞ্চলগুলো। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ। অনেক চরাঞ্চলের ঘর বাড়ি ও নিচু এলাকার কাঁচা পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে এসব এলাকার মানুষের।
আজ শনিবার (১৫ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উলিপুর উপজেলা বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবা চরের কাদের মিয়া বলেন, আমার বাড়ির চাল থেকে পানি হয়েছে। বউ বাচ্চাকে উঁচু স্থানে রাখছি। নৌকা যোগে ঘরের অন্যান্য জিনিস পত্র খুলে নিয়ে নিচ্ছি। এই অবস্থায় এখনো কেউ খবর নিতেও আসলোও না। সব মিলিয়ে অনেক কষ্টে আছি ভাই।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কুড়িগ্রামের নদ নদীর পানি বৃদ্ধির পর বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও এখনো দুধকুমার ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ধরলা, দুধকুমারের পানি কমতে শুরু করলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাঈদুল আরীফ জানান, পানিবন্দী মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ৬শ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।