পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বের হাজিরা মদিনা যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আকাশপথ ও স্থলপথে প্রায় পাঁচ লাখ হাজি মদিনায় পৌঁছেছেন। মক্কার অলিগলি এখন হাজিদের পদচারণায় মুখর। হজের বরকত হিসেবে প্রিয়জন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য স্মৃতিচিহ্ন কিনতে ব্যস্ত হাজিরা।
মদিনায় বিদেশি হাজিরা দুই থেকে আট দিন অবস্থান করবেন, অনেকেই এর চেয়ে কম সময়ও থাকেন। অবশ্য হজের আগে যেসব হাজি মদিনা গিয়েছিলেন তারা আর মদিনা আসবেন না, তারা মক্কা থেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। এমন হাজির সংখ্যা প্রায় সাত লাখ। মূলত মক্কা-মদিনার ভিড় কমাতে হিসাব করেই হাজিদের ফ্লাইট এভাবে নির্ধারণ করা হয়।
মসজিদে নববিতে নামাজ আদায় ও রওজা শরিফ জিয়ারত ছাড়া মদিনায় হাজিদের উল্লেখযোগ্য আর কোনো কাজ নেই। এই অবসরে মদিনা ও এর আশপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু কেনাকাটা করেন। পরিবারের একেকজনের একেক আবদার। হাজি সাহেবকে সেসব আবদারের কিছুটা হলেও পূরণ করতে হয়। নুন আনতে পানতা ফুরোয়, এমন হাজি সাহেবও অধুনা ডাঁট-ফাটের সঙ্গে তাল মেলান। আর সচ্ছল হলে তো কথাই নেই। সব মিলিয়ে মক্কা-মদিনার বাজার এখন বেশ রমরমা।
মক্কায় তুলনামূলক জিনিসপত্রের দাম বেশি। তবে নির্দিষ্ট কিছু দোকান আছে, যেগুলো প্রধান সড়ক থেকে গলি-ঘুপচির ভেতরে। সেখানে কিছুটা ছাড়মূল্য রয়েছে। মেসফালাহ সড়কের আগে, কবুতর চত্বরের পরে, পূর্বদিকে কয়েকটি গলি আছে। পাঁচতারকা হোটেল ও বাংলাদেশি রেস্তোরাঁসহ টুকিটাকি সবই সেখানে সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। ব্যতিক্রম মদিনার চিত্র।
মদিনায় সবকিছুর দাম তুলনামূলক কম। যারা একটু-আধটু স্বর্ণের অলংকার কিনতে চান, তারা মদিনার জুয়েলারি দোকানগুলোতে ঢুঁ মারেন। মদিনায় চাইলে স্বর্ণের দোকানে দামাদামিও করা যায়।
মসজিদে নববির চারপাশে অনেক শপিংমল, মার্কেট ও হকার রয়েছে। বদর গেটের বিপরীতে আছে বিন দাউদ ও তাইয়েবা শপিংমল। কেনাকাটার সময় কোনো দোকানে যদি ফিক্সড প্রাইস (একদর লেখা) থাকে, তারপরও দামাদামির সুযোগ আছে। এমনিতে হজের মৌসুমে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম একটু বাড়িয়ে লেখে। তাই কিছুটা দর কষাকষি করাই শ্রেয়। তবে সুপার মার্কেটের যেসব পণ্যে বারকোড দেওয়া, সেসবে দরাদরির সুযোগ নেই।
হজ শেষে হাজিরা খেজুর কিনবেন, এটা অনেকটা রুটিন কাজ। মদিনায় বহু খেজুরের মার্কেট রয়েছে। সুলভ মূল্যে তা পাওয়া যায়। এর বড় কারণ, মদিনা প্রাচীনকাল থেকেই খেজুর বাগানের জন্য বিখ্যাত। তবে নিরাশার কথা হলো, বিমানে লাগেজের ওজনের কথা মাথায় রেখে চাইলেও খেজুর বেশি নেওয়া যায় না। বিখ্যাত কিছু খেজুরের জাত হলোÑ আজওয়া, আম্বার, সুক্কারি, মাজদল, কালকি, রাবিয়া ইত্যাদি।
খেজুর ছাড়াও হাজিরা কেনেন আতর (উদ, ধূপ), তাসবি, টুপি, জায়নামাজ, জুব্বা, বোরকা, হিজাব, কাপড়, ঘড়ি, কসমেটিক্স, বিভিন্ন ধরনের পোশাক, দেয়াল চিত্র, পবিত্র কোরআন, মিষ্টি, সৌদি কফি, থালা-বাসন, খেলনা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইত্যাদি। তাই মদিনার বাজারগুলোতে নামাজের সময় ছাড়া দেখা মেলে হাজিদের। হাজিদের ভিড়ে মদিনার দোকান ও বাজারের জাঁকজমক বেড়েছে।
মসজিদে নববির আশপাশে বসবাসকারী হাজিরা আশপাশের দোকান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে কেনাকাটা সারেন। অনেকে আবার দলবেঁধে ট্যাক্সি নিয়ে কেনাকাটার জন্য বের হন। সাধারণত রাতে কেনাকাটা করা হয়। যাত্রী হিসেবে বিমানে পণ্য বহনে ওজনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক হাজি বিভিন্ন কোম্পানির কার্গো সেবাও নিয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে এক জাঁকজমক পরিবেশ বিরাজ করছে মদিনায়।