টাকা দিলেই মিলবে উপবৃত্তি শিক্ষার্থীদের এমন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী (কেরানি) ফয়জুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং প্রেস ক্লাবে ওই অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ৪৪ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য আবেদন করেন। অফিস সহকারী ফয়জুর রহমান শিক্ষার্থীদের জানান, তাকে ১ হাজার টাকা করে দিলে সবাইকে উপবৃত্তি পাইয়ে দেবেন। উপবৃত্তি পাওয়ার আশায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই তাকে ১ হাজার টাকা করে দেন। কিন্তু উপবৃত্তির তালিকায় নাম আসে মাত্র ১০-১২ জনের। টাকা দিয়েও উপবৃত্তির তালিকায় নাম না আসায় ক্ষুব্ধ হয় শিক্ষার্থীরা। তালিকায় নাম না থাকায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে অফিস সহকারী ফয়জুর রহমান তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের হুমকি-ধমকি দেন। রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ভয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী চুপ হয়ে গেলেও জেসমিন আক্তার ও মারজিনা আক্তার নামে দুই শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে।
জেসমিন আক্তার ও মারজিনা আক্তার বলে, তারা নি¤œআয়ের পরিবারের সন্তান। ফয়জুর রহমান তাদের উপবৃত্তি পাইয়ে দেবেন বলে ১ হাজার টাকা এবং উপবৃত্তির ফরম বাবদ আরও ২০০ টাকা নেন। কিন্তু তালিকায় নাম না আসায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি (কেরানি) বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেব।
জেসমিন আক্তার আরও বলেন, অফিস সহকারীর ভাতিজি ও অধ্যক্ষের স্ত্রীর বান্ধবী উপবৃত্তি পেলেও পাইনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ফাজিল প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সাইদুল অভিযোগ করে বলেন, ‘ফয়জু কেরানি আমার কাছে উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আমি তাকে উপবৃত্তির জন্য ৭০০ টাকা এবং আবেদনের জন্য ২০০ টাকা দিই। কিন্তু উপবৃত্তির তালিকায় আমার নাম না এলে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে হুমকি-ধমকি দেয়।’
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফয়জুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সবই ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘উপবৃত্তির তালিকা আমরা করি না। এটা ওপর থেকে হয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়টা বারবার অবগত করার পরও কেন তারা কেরানিকে টাকা দেবে? যেহেতু অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘উপবৃত্তি দেয় সরকার, তাহলে সে কেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেবে? যদি সে এমনটি করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজা জেসমিন বলেন, তদন্তে সত্যতা মিললে ওই কেরানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকার যেখানে বিনামূল্যে উপবৃত্তি দিচ্ছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দুঃসাহস সে পায় কী করে। ইউএনওর মাধ্যমে অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’