প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির মামলায় রোববার (১৬ জুলাই) মাগুরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে জুতা প্রদর্শন করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা।
রোববার (১৬ জুলাই) দুপুরে মাগুরা জেলা জজ আদালতের ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষোভকারীদের বাঁধা দিতে গেলে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সোমবার আসামির রিমান্ড ও জামিন শুনানি হবে।
গত ১৯ মে রাজশাহীর শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গত ২৪ মে মাগুরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান আদালতে মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত ওই মামলায় শনিবার ফরিদপুর কারাগার থেকে শ্যোন অ্যারেস্ট হিসেবে মাগুরায় আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সকালে পুলিশ প্রিজনভ্যানে করে বিএনপি নেতা আবু সাইদ চাঁদকে নিয়ে মাগুরা জেলা জজ আদালত ফটকে পৌঁছালে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা প্রদর্শনসহ বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে পুলিশের এএসআই মফিজুর রহমান আহত হয়। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ বিএনপি নেতা আবু সাইদ চাঁদকে ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের পাশাপাশি আসামি পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে শুনানির জন্যে আদালতের পক্ষ থেকে সোমবার দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা বিজ্ঞ আদালতে আসামির জামিনের জন্য প্রার্থনা করেছি। সোমবার শুনানির জন্য রেখেছেন বিজ্ঞ বিচারক।
মামলার বিষয়ে বাদী জেলা যুবলীগের আহবায়ক ফজলুর রহমান জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আদালতের মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে আসামি আবু সাঈদ চাঁদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করি। আমাদের পক্ষ থেকে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, পুলিশ হেফাজতে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আদালতের গেটে সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে জুতা নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। এছাড়া হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সোমবার রিমান্ড এবং জামিন শুনানির লক্ষ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে। সে বিষয়ে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।