বাবা-মাকে না জানিয়ে বাল্য বিয়ে দিলেন নানি

বাবা-মাকে না জানিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আপন মা মোসা. নাজমার (৫৫) নামে মামলা করেছেন মেয়ে মোসা. আমিনা সুলতানা (৩৫)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পশ্চিম লোহাদী গ্রামে। ঘটনার পর থেকে ওই শিশু শিক্ষার্থী সিমাকে (১৪) নিয়ে তার স্বামী পলাতক রয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীর মা আমিনা সুলতানা জানান, তার বাবার বাড়ির পাশ্ববর্তী লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির খ শাখায় (রোল-৮) পড়ত তার মেয়ে নুসরাত জাহান সিমা। সিমার বাবার বাড়ি বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নানার বাড়িতে থাকত। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন ঘটকের মাধ্যমে নানার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব আসত সিমার। কিন্তু তার মা-বাবা মেয়েকে এ বয়সে বিয়ে না দিতে চান নি। কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়ে তাকে শিক্ষিত ও স্বচ্ছল কোনো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তারা। সম্প্রতি নানি নাজমার কাছে টোক ইউনিয়নের টোক নগর গ্রামের মো. কবির প্রধানের প্রবাসী ছেলে মো. হিমেলের (২৮) সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব আসে। পরে গত ২০ জুন ওই পাত্রের কাছ থেকে নাজমা মোটা অংকের টাকা উপঢৌকন পেয়ে বাবা-মাকে না জানিয়েই শিশু সিমাকে বিয়ে দেন। কয়েক দিন পর খবর পেয়ে টোক ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিলের সহযোগিতায় সিমার বাবা-মা মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর কয়েক দিন পর স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় সিমাকে বাড়ির পাশ থেকে তুলে নিয়ে যায় হিমেল। এর পর থেকে সিমাকে নিয়ে তার স্বামী হিমেল পলাতক রয়েছে।

বহু অনুসন্ধানের পরও মেয়েকে না পেয়ে গত ১২ জুলাই আপন মা নাজমাসহ ৬ জনকে আসামি করে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে একটি অপহরণ মামলা (নং সিপি-২০৫/২৩) করেন সিমার মা মোসা. আমিনা সুলতানা। তিনি আদালতের মাধ্যমে তার মেয়েকে দ্রুত ফেরত চান এবং এ ধরনের জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মোসা. নাজমা জানান, ইদানিং তার নাতনি সিমার গতিবিধি সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় তার বাবা মার সঙ্গে আলাপ করলে তারা ভালো পাত্র পেলে বিয়ে দিতে সম্মতি জানায়। তবে এ বিয়ের বিষয়ে তাদের সম্মতি নেওয়া হয় নি। আর পাত্রের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন।