একদফা দাবিতে বগুড়ায় বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ঠেকাতে একাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ছে পুলিশ। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বিএনপি বলছে, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে, বিএনপি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে।
জানাযায়, কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটের অধিকার, খালেদা জিয়ার মুক্তি, গুম-খুন ও সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের একদফা দাবি বাস্তবায়নে বগুড়ায় পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ লক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে বনানী টু মাটিডালী বিমান মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি দেয় জেলা বিএনপি।
একই দিন বেলা ১২টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলীয় সমাবেশের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ।
স্থানীয়রা জানায়, বিএনপির মিছিলটি ইয়াকুবিয়া মোড়ে এসে সোজা রাস্তা দিয়ে সাতমাথার দিকে যেতে থাকে। এ সময় মিছিলটি সাতমাথা হয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দেয় পুলিশ। এই বাঁধাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। মিছিলের পিছন থেকে লাঠিসোটা, ইট ছুঁড়তে থাকেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ তীব্র হলে টিয়ারশেল পরবর্তীতে রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ বলেন, বিএনপি সাতমাথায় যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের কথা ছিল ইয়াকুবিয়া মোড় হয়ে জলেশ্বরীতলা দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কিন্তু তারা জোর করে সাতমাথায় যাওয়ার চেষ্টা করে ও পুলিশের ওপর ইট, পাথর, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এসময় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়। এরমধ্যে ৫/৬ জন গুরুতর আহত।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও রাবার বুলোট ছোড়ে উপরের দিকে। বিএনপির কোন কর্মীকে মারপিট বা লাঠিচার্জ করা হয়নি বলে জানান তিনি।