জনগণ কাকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন?

ডিসক্লেইমার : এই লেখাটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশ্য বা গুপ্ত সম্পর্ক নেই।

একজোড়া কঠিন প্রশ্ন

প্রথম প্রশ্ন : সদ্য গর্ভবতী এক মহিলার সন্তান সংখ্যা আট। এর মধ্যে তিনজন বধির, দুজন অন্ধ, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গর্ভবতী মহিলা নিজেও সিফিলিস রোগে আক্রান্ত। তার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী তার কি গর্ভপাতের আশ্রয় নেওয়া উচিত?

একটু ভাবুন। উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। নিচে আরও কী লেখা হয়েছে তা পড়ার আগে আর একটা প্রশ্নের উত্তর দিন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন : পৃথিবীর জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। আপনার ভোট অত্যন্ত মূল্যবান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মূর্খ ও জ্ঞানীর ভোটের দাম সমান। বিশপের ভোট আর ছিঁচকে চোরের ভোটে পার্থক্য নেই। রাজকন্যা আর যৌনকর্মীর ভোটের কোনো তফাৎ নেই। সবার ভোটেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। 

এখন আপনার সামনে তিনজন প্রার্থীর বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে খুশি তাকে দেবেন। কোনো বাধ্যকতা নেই। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় আছে। কিন্তু ভোট কাকে দেবেন?

পদপ্রার্থী ১ : ধুরন্ধর রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সম্পৃক্ত; ভাগ্য গণনাকারীর ওপর তার অঢেল আস্থা; তিনি মদ্যপ ও চেইন স্মোকার। তার দুজন উপপতœী।

পদপ্রার্থী ২ : দুবার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঘুমান, কলেজ জীবনে আফিম সেবন করেছেন; প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১.১৪ লিটার হুইস্কি পান করেন।

পদপ্রার্থী ৩ : তিনি পদকপ্রাপ্ত রণাঙ্গনের বীর। নিরামিষাশী; ধূমপান করেন না, আনুষ্ঠানিক প্রয়োজন না হলে বিয়ারও হাতে নেন না। তিনি কখনো তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করেননি।

তিনজনের মধ্যে আপনার পছন্দ কে? আপনার পছন্দে যদি অনড় থাকেন তাহলে পরিচিতিগুলো জেনে নিন।

পদপ্রার্থী ১ : ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট

পদপ্রার্থী ২ : উইন্সটন চার্চিল

পদপ্রার্থী ৩ : এডলফ হিটলার

এখনো কি আপনার সিদ্ধান্তে অটল আছেন?

প্রসঙ্গক্রমে গর্ভপাত বা অ্যাবরশন সংক্রান্ত প্রশ্নটার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। সিফিলিস, আট সন্তানের জন্য সেই মহিলাটির গর্ভপাতের প্রশ্নে আপনার জবাব যদি ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তাহলে আপনি যাকে হত্যা করতে চেয়েছেন তার নাম বিটোফেন। ভাবুন কত দ্রুতই না আপনি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন। আপনার সব বিবেচনা বাস্তবায়ন হলে পৃথিবীর পরিণতি কী হবে তাও ভেবে দেখতে পারেন। মনে রাখবেন শৌখিন শিল্পীরা নৌকা বানাতে পারে, কিন্তু পেশাজীবীদের হাতে তৈরি হয় টাইটানিক। টাইটানিক আটলান্টিকে তলিয়ে যাচ্ছে, আপনি সে জাহাজে আছেন। ভাবুন তো!

এবার একটি কোম্পানির কথা ভাবুন : যার কর্মচারীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক, তাদের যে পরিসংখ্যান এবার বিবেচনা করা যাক

২৯ জন বৌ পেটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত।

৭ জন বিভিন্ন ধরনের ধোঁকাবাজির কারণে গ্রেপ্তার।

১৯ জন চেক সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত।

১১৭ জন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সময় দেউলিয়া।

৩ জন মারপিটের দায়ে অভিযুক্ত।

৭১ জন অপরিশোধিত ঋণের কারণে ক্রেডিট কার্ড পাননি।

১৪ জন মাদকজনিত অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে।

৮ জন দোকান থেকে এটা ওটা চুরির দায়ে অভিযুক্ত।

২১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে।

৮৪ জন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে?

নেই?

এটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, যেখানে ৫৩৫ জন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করে থাকেন। এই হিসাব মার্কিনিদের গণ ও সামাজিক মাধ্যম থেকেই নেওয়া হয়েছে। কিছু যোগ বা বিয়োগ করিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে বিশেষ মোহ থাকলে কষ্ট পেতে পারেন। আসলে কষ্টের কিছু নেই। এই পরিসংখ্যানের প্রতিফলন পৃথিবীর অনেক দেশেই পাবেন।

একটি নির্বাচনী মডেল : জার্মান ফেডারেল ইলেকশন ১৯৩৬

জার্মান প্রেসিডেন্ট (কার্যত ওয়াইমার রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট) পল ফন হিন্ডেনবার্গ ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৩ এডলফ হিটলারকে জার্মান চ্যান্সেলর নিয়োগ করলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ জার্মান পার্লামেন্ট রাইখস্ট্যাগে আগুন দেওয়া হলো, দায় পড়ল কমিউনিস্টদের ওপর। এর ঠিক ৬ দিন পর ৫ মার্চ ১৯৩৩ ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একীভূত হওয়ার আগে অখন্ড জার্মানির এটাই ছিল শেষ বহুদলীয় নির্বাচন। নির্বাচন কালে ব্রাউনশার্ট বাহিনী ও নাৎসিরা ভয়াবহ সন্ত্রাস, নিপীড়ন ও প্রচারণার রাজত্ব কায়েম করল ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই।

রাইখস্ট্যাগের আসন সংখ্যা ৬৪৭, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ৩২৪ আসন আর সংবিধান রদবদল করতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন। প্রবল তাণ্ডব চালিয়েও  হিটলারের দল এনএসডিএপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না। আগের নির্বাচনে প্রাপ্ত ১৯৬ আসন এবার ২৮৮-তে পৌঁছল। ৯২টি আসনের বৃদ্ধি ঘটল। হিটলারের দল এবং আলফ্রেড হিউগেনবার্গের জার্মান ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ছাড়া অন্য কোনো দলকে নির্বাচন প্রচারণায় অংশ নিতে দেওয়া হলো না। জার্মান ন্যাশনাল পিপলস পার্টি তাদের পুরনো ৫২ সিট ধরে রাখল, বাড়তি কিছু পেল না। অন্য সব দল কমবেশি সিট হারাল। হিটলার তার প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৫২ নির্বাচিত সদস্যের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ কোয়ালিশনের নির্বাচিত নেতা হিসেবে নিজের আসন পোক্ত করলেন।

তিনি কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে গিয়েও পিছিয়ে এলেন। তার আশঙ্কা ছিল নিষিদ্ধ হলে পার্টির সদস্যরা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে এবং তাদের মাধ্যমে কমিউনিস্ট বিপ্লবও ঘটে যেতে পারে। অল্পদিনের মধ্যে নাৎসি নিপীড়নে হিটলারের কোয়ালিশন ছাড়া আর সব দল কার্যত নিষ্ক্রিয়  হয়ে পড়ল ও নাৎসিদের স্টর্মট্রুপাবের হাতে ভীষণ মার খেতে শুরু করল ট্রেড ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি এবং বামঘেঁষা আর সব দল। ক্যাথলিক জার্মানদের সেন্টার পার্টি ও তাদের সমর্থনদাতা সব পত্রিকা নিষিদ্ধ হলো।

নিষিদ্ধ হতে থাকল আরও অনেক সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠান। তখন জার্মানির রাস্তায় প্যাট্রল দিচ্ছে ব্রাউনশার্ট আর এসএস। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ পরই জার্মানির নির্বাচিত চ্যান্সেলর এডএফ হিটলার ২৩ মার্চ রাইখস্ট্যাগের বিরোধী সদস্যদের প্রাণের ভয় দেখিয়ে তাদের সম্মতিতে ‘অ্যানএবলিং অ্যাক্ট’ পাস করিয়ে নিলেন। এই আইন তাকে দিল একনায়কের ক্ষমতা ও শক্তি। চ্যান্সেলর একমাসের মধ্যেই রাইখস্ট্যাগকে রাবারস্ট্যাম্প পার্লামেন্ট বানিয়ে ফেললেন। পরের বছর প্রায় ক্ষমতাহীন প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ মারা গেলেন। নতুন কোনো প্রেসিডেন্টের আর প্রয়োজন হয়নি। চ্যান্সেলর আর প্রেসিডেন্ট পদ এক করে হিটলার হয়ে যান ফুয়েরর। সৈনিক, পুলিশ, আমলা থেকে শুরু করে নায়ক গায়ক সবাইকে প্রকাশ্যে ও আড়ালে ‘হিটলার শপথ’ নিতে হলো জার্মানিতে টিকে থাকতে হলে হিটলারের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য থাকতে হবে।

নতুবা গ্যাস চেম্বারের সাইরেন শুনবেন।

হিটলারের ফুয়েরর নামক দানব হয়ে ওঠার একটি বড় সিঁড়ি ১৯৩৩ সালের ফেডারেল নির্বাচন।

নির্বাচনে হিটলারের ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি পেল ৪৩.৯১% ভোট ও ২৮৮ আসন; সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১৮.২৫% ভোট ও ১২০ আসন; কমিউনিস্ট পার্টি ১২.৩২% ভোট ও ৮১টি আসন, সেন্টার পার্টি ১১.২৫% ভোট ও ৭৩ আসন, জার্মান ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৯.৪৭% ভোট ও ৫২ আসন, বাভারিয়ান পিপলস পার্টি ২.৭৩% ভোট ও ১৯ আসন। তাছাড়া জার্মান স্টেট পার্টি ৫ আসন, ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল পিপলস সার্ভিস ৪ আসন, জার্মান ফার্মার্স পার্টি ২ আসন, এগ্রিকালচারাল লিগ ১ আসন।

প্রবল ক্ষমতাধর হিটলার এরপর কী করেছেন এবং তার কী পরিণতি হয়েছে ইতিহাসের সে সাক্ষ্য এখনো পুরনো হয়নি। ১৯৩৬ সালের ২৯ মার্চ হিটলারের রাজত্বে জার্মান পার্লামেন্ট নির্বাচন। এবার আসন সংখ্যা ৭৪১, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে ক্ষমতাসীন হতে ৩৭১ আসনের দরকার।

সে নির্বাচনে হিটলারের দল এনএনডিএপি ক’টা আসন পেয়েছে অনুমান করুন? ৭৪১টি। একটিও হাতছাড়া হয়নি।

এই নির্বাচন ছিল আসলে একটি রেফারেন্ডাম। একটিই প্রশ্ন; যার সারকথা আপনি হিটলারের শাসন চান নাকি চান না।

নির্বাচনের আগে নুরেমবার্গ আইন করে ইহুদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার রহিত করা হয়েছে। হিটলার ছাড়া এতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম নেই। যারা ভোট দিতে এসেছেন কিংবা যাদের ভোট দিতে আনা হয়েছে তাদের ঘাড়ে ক’টা মাথা যে ব্যালটে হিটলারকে না বলবেন। তারপরও কিছু না ভোট পড়েছে।

নির্বাচননামা

আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন তার ইলেকশন ক্যাম্পেইন বাজেটের পুরোটাই তার সম্ভাব্য ভোটারদের মদ খাইয়ে ব্যয় করেছিলেন। তিনি তাদের মোট ১৬০ গ্যালন মদ খাইয়েছেন। সেবনকারীর সংখ্যা ছিল ৩৯১; একটি ইলেক্টোরাল কলেজ তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। ৩০ এপ্রিল ১৭৮৯ থেকে ৪ মার্চ ১৭৯৭ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

নির্বাচনে ব্যালট থাকতে হবে তা না হলে নির্বাচন শুদ্ধ হবে না এটা সব দেশের জন্য নয়। গাম্বিয়ার নির্বাচনে পড়তে না পারা ভোটারদের জন্য মার্বেল ও ড্রাম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন ড্রামে বিভিন্ন প্রার্থীর ছবি সাঁটানো থাকল। ভোটার ব্যালটের বদলে একটি মার্বেল নিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর ড্রামে ছুড়ে দিলেন। মার্বেল গুনে জয়-পরাজয় নির্ধারণের ধারণাটি অবশ্যই সৃজনশীল উদ্ভাবন।

বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনটা যদি ঘুমিয়ে কাটাতে চান কোনো সমস্যা নেই। ভোট আপনার পবিত্র আমানত, ভোট দিতে প্রার্থীরা সবাই আপনাকে উৎসাহিত করবে, কিন্তু কেউই আপনাকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারবে না। ভোট না দেওয়া ফৌজদারি কি দেওয়ানি কোনো অপরাধের আওতায়ই আসেনি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে ভোটদান বাধ্যতামূলক। আঠারোর্ধ্ব ভোটার নির্বাচনের দিন ভোটাধিকার প্রয়োগ না করেন তাহলে তার ২০ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা হবে। যদি জরিমানা না দেন তাহলে অবাধ্যতার জন্য জরিমানা বেড়ে ১৮০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।

উত্তর কোরিয়াতেও ভোট হয়। ২০১৫-এর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট কিম ইল স্যুং শতকরা ৯৯.৭ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দুটো বাক্সই সামনে রাখা থাকে যদি কিমকে চান তাহলে ভরা বাক্সে আপনার ব্যালট ফেলুন। যদি না চান, খালি বাক্সে ব্যালট ফেলার ঝুঁকি নেবেন না। কারণ আপনার জীবনের মূল্য কাগজের ব্যালটের চেয়েও বেশি।

১৯২৭-এ লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চার্লস ডি বি কিং তৃতীয়বারের মতো পদপ্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি ২৩৪,০০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার বিরোধী প্রার্থী পেয়েছেন ৯০০০ ভোট। চার্লস কিংয়ের বিজয় নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। কারণ নির্বাচনের সময় লাইবেরিয়ার বৈধ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৫,০০০।

১৯৬৪ সালে হেইতির প্রেসিডেন্ট পাপা ডক (মূল নাম ফ্রাসোয়া দ্যুভালিয়ে তেমন পরিচিত নয়) সারা জীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে নির্বাচন করেন। ব্যালটে আগে থেকেই ‘ইয়েস’ মুদ্রিত ছিল। তিনি ১,৩২০,৭৪৮ ভোট পান (৯৯.৯%)। আজীবন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফল শুনে পাপা ডক সবিনয়ে বলেন, জনগণের রায় আমি মাথা পেতে নিলাম। একজন বিপ্লবী হিসেবে জনগণের রায় অশ্রদ্ধা করার কোনো অধিকার আমার নেই। তিনি কথা রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট অবস্থায় ১৯৭১-এর এপ্রিলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে বেবি ডক তার স্থলাভিষিক্ত হন। মানুষের পক্ষে করা সম্ভব এমন কোনো পাপ নেই যা পাপা ডক করেননি।

আপনি কাকে ভোট দেবেন, জানেন তো? যদি নাও জানেন, ভোটকেন্দ্রে নাও যান, সমস্যা নেই তিনি জনগণের রায় মাথা পেতে নেবেন।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক