শিয়াল কেন ‘পন্ডিত’

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

শিয়ালকে ‘পন্ডিত’ বলা হয় বুদ্ধিমান, চতুর ও ধূর্ত স্বভাবের জন্য। বাংলার লোককথা, গল্প ও প্রবাদে তাকে কৌশলী ও বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাকে ‘পন্ডিত’ উপাধি দিয়েছে। কারণ সে কৌশলে শক্তিশালী প্রাণীকে বোকা বানায়। তারা রাতের আঁধারে শিকার করে। তখন আশপাশের পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝে এবং বিপদের সময় নিজেকে রক্ষা করতে জানে। অসাধারণ শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি তাদের শিকার খুঁজতে সাহায্য করে। নেকড়ের মতো বড় দলে না থেকে, একা অথবা ছোট পরিবারে বসবাস করে। শিয়ালকে পণ্ডিত বলা হয়, তার ধূর্ততা ও বুদ্ধির ছলকে বিদ্রুপাত্মকভাবে সম্মান দেওয়া। তাদের প্রধান খাবার ইঁদুর, খরগোশ, পাখি, ডিম ও পোকামাকড়। শীতকাল শেষে বা বসন্তের শুরুতে, শিয়ালের প্রজননকাল শুরু। গর্ভধারণকাল প্রায় ৫০-৬০ দিন এবং তারা একসঙ্গে ৩ থেকে ৬টি ছানা প্রসব করে। একশ থেকে দেড়শ বছর আগে ইউরোপিয়ান অঞ্চলে, কালেভদ্রে দুই-একটি শিয়ালের দেখা পাওয়া যেত। এখন শিয়ালের সংখ্যা ইউরোপে এমনভাবে বেড়েছে, তাতে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের টনক নড়েছে। তারা তদন্তের পাশাপাশি, পরিবেশগত কী প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে গবেষণা করছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইতালি, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়াতে শিয়াল তাদের ভিত্তি স্থাপন করছে। আজ থেকে হাজার বছর পরে ভারতীয় উপমহাদেশের রূপকথার গল্পের মতো, ইউরোপের শিশু-কিশোররা রূপকথার গল্পে শিয়ালকে ‘শিয়ালপণ্ডিত’ হিসেবে হয়তো চিনবে। বন্য পরিবেশে তারা ২-৩ বছর বাঁচে। তবে অনুকূল পরিবেশে ১০ বছর বাঁচতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত