তরুণীকে জিম্মি করে প্রাণ হারালেন জেপি নেতা

সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন জেপি নেতা সালাম বাহাদুর ওরফে আবদুস সালাম মিয়া। এরপর ওই যুবতীর হাতেই তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ বলছে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে যাওয়া সালাম বাহাদুরের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে গ্রেপ্তারকৃত যুবতীকে ফাঁদে ফেলে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন সালাম।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচএম আজিমুল হক। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানী ও মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার গাজিন্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি আজিমুল হক বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে মেয়েটির সঙ্গে নিহত সালামের পরিচয় হয় ধানম-ির একটি সুপার শপে। তখন তিনি মেয়েটিকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। এরপর ওই মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে এবং অনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। তাদের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে রাখেন সালাম। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল।

তিনি বলেন, সালামের এমন কাজে দিশেহারা মেয়েটি একপর্যায়ে ঢাকা ছেড়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজ বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু সালামের ব্ল্যাকমেইল চলতেই থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই বিকেলে সালাম মেয়েটির বাড়িতে যান। তিনি যাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজনকে বিষয়টি জানায় মেয়ের পরিবার। সালাম মেয়েটির বাড়িতে যাওয়ার পরেই শুরু হয় নির্যাতন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সালামের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বারবার নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে মৃত্যু হয়। সালামের মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা নেমে যায়। এরপর গ্রেপ্তার মেয়ের মা সালামের লাশ গাড়িতে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে যান।

গত ১৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট থেকে সালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় তার ছোট ভাই হত্যা মামলা করেন।