সুজন সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার বিচারাধীন মামলা নিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর পক্ষে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করা হলেও তা সোমবার জানা যায়।

চার আইনজীবী হলেন মনিরুজ্জামান রানা, মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, মাহফুজুর রহমান রোমান ও শফিক রায়হান শাওন।

জবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী খাদিজার বিরুদ্ধে অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় এবং ১৯ অক্টোবর কলাবাগান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ।

এসব মামলায় মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেনকেও আসামি করা হয়। তিনি বিদেশে পলাতক। ইতিতোমধ্যে এ মামলায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তার জামিনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি চেম্বার আদালত খাদিজার জামিনের ওপর আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়ে এ বিষয়ে শুনানি করতে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

অন্যদিকে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন খাদিজার আইনজীবীরা।

গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগ জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি চার মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রেখে আদেশ দেয়।

গত ১২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে খাদিজাকে জামিনের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয় সুজন। এতে তাকে কারাগারে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘণ বলে মন্তব্য করে সুজন।

আবদেনকারী ব্যারিস্টার হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুজন বলছে তার (খাদিজা) মানবাধিকার লঙ্ঘণ হচ্ছে। আমরা মনে করি বিচারাধীন সময়ে এ ধরনের মন্তব্য সমীচীন নয়। চলতি সপ্তাহে চেম্বার আদালতে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।’