সীতাকুণ্ডে গলা কেটে শিশু হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নেসা ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলায়। তার বাবা পেশায় একজন টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে, ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে যান। সেখান থেকে হেঁটে তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে যান।

ঘটনার দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল।

এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

ইরার মৃত্যুর দিনই কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়ায়। বাবু শেখ সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার পর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে তিনি প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার করলে এবং বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

ইরা মনির মায়ের দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৩০ জুন আসামির সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত