অমিত আলোকসজ্জা

অমিত হাবিব, মানে আমাদের অমিতদা মারা গেছেন এক বছর হয়ে গেল। যেকোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর ক্যালেন্ডার চলবে, সময় গড়াবে, স্বাভাবিক।

এই এক বছরে তার শূন্যতা প্রতিমুহূর্তে অনুভূত হয়েছে। যেকোনো মানুষ মারা গেলে, তার শূন্যতা কোথাও না কোথাও অনুভূত হবেই। সেটাও স্বাভাবিক।

সেই ধারায় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা-দোয়া ইত্যাদি হবে। কিন্তু আমাদের মনে হলো, নিয়মরক্ষার স্মরণসভায় অমিত হাবিবকে ঠিক ধরা যাবে না। এবং সাধারণ স্বজন হারানোর বেদনাজনিত আর্তিতেও তিনি ঠিক মানানসই নন। তিনি মানানসই এক জায়গাতেই। তার সাংবাদিকতার বহুস্তরবিশিষ্ট চিন্তায়। বহুমুখী বোধের বিন্যস্ততায়। আর তাই এই ম্যাগাজিনে প্রথাগত স্মৃতিচারণমূলক লেখার বদলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে অমিত হাবিবের সাংবাদিক সত্তাকে। তার সংবাদ ভাবনাকে নানা স্তরে ভাগ করে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিটাকে বোঝার-বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, ম্যাগাজিনটার আকার আরও বাড়িয়ে, বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত করে একটা বই করার, যা সাংবাদিক-সাংবাদিকতার ছাত্র-গবেষকদের জন্য হতে পারে শিক্ষাসহায়ক।

এ লেখাগুলো লেখার জন্য আমরা তাদেরই দ্বারস্থ হয়েছি যারা বছরের পর বছর অমিত হাবিবের চিন্তার মুনশিয়ানা দেখেছেন, তাতে সমৃদ্ধ হয়েছেন। আশা করি, এ চেষ্টা অমিত হাবিবকে যেমন জীবন্ত রাখবে, তেমনি পেশাদার-বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রয়োজন বোঝাতেও সাহায্য হবে।

আমরা সব সময়ই বলেছি, অমিত হাবিব জীবনকে যেভাবে যাপন করেছেন, তাতে মৃত্যুশোকের চেয়ে জীবন উদযাপনই তার সঙ্গে মানানসই। ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রেও একই কথা। এটা তাকে নিয়ে দুঃখ করার খতিয়ান নয়, তার ছড়িয়ে যাওয়া আলোয় আলোকসজ্জার বয়ান।

তাই আজ একদিকে অমিতশূন্যতা। অন্যদিকে অমিত আলোকসজ্জা।