শরীয়তপুর সদরে মুক্তিপণ না পেয়ে হৃদয় খান নিবিড় (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে নিবিড়ের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত সোমবার বিকেলে নিবিড়কে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহরণকারীরা শিশুটিকে শ^াসরোধে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত নিবিড় উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পত্তির ছেলে। সে স্থানীয় শিশু কানন কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অপহরণকারীরা গত চার বছর ধরে নিবিড়দের বাড়ির টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকত।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নিবিড়। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি পরিবার। সন্ধ্যার দিকে নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরিবার থানা পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের চিহ্নিত করা হয়। পরে অপহরণকারী কিশোর সিয়াম, তুহিন, শাকিলসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে পরিকল্পনাকারী সিয়ামকে প্রথম আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।
নিবিড়ের মা নিপা আক্তার বলেন, ‘যারা নিবিড়কে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, ফাঁসি চাই।’
পালং মডেল থানা পুলিশের ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপহরণকারী সিয়াম, তুহিন, শাকিলসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’