সাবিনাদের কোচের ব্যতিক্রমী চাওয়া

এশিয়ান গেমসের জন্য অভিজ্ঞ কোচ সাইফুল বারী টিটুকে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দায়িত্ব। গতকাল থেকে তার অধীনে এশিয়াডের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন নারী ফুটবলাররা। এশিয়াডে বাংলাদেশকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। তারা পড়েছে সাবেক বিশ্বকাপজয়ী জাপানের গ্রুপে। এ ছাড়া আছে ভিয়েতনাম ও নেপাল। তাই কঠিন প্রতিপক্ষ মোকাবিলার প্রস্তুতিটাও হওয়া চাই ভালোভাবে। এ কারণে প্রথম দিনেই এক ব্যতিক্রমী চাওয়ার কথা জানিয়েছেন নতুন কোচ। তিনি চান এশিয়াডের প্রস্তুতি স্বরূপ সাবিনা-কৃষ্ণাদের বয়সভিত্তিক পুরুষ ফুটবল দলের সঙ্গে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে। মূলত দলের ফিটনেস সেরা পর্যায়ে নিয়ে যেতেই এ রকম চাওয়া অভিজ্ঞ এই কোচের।

নেপালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ সিরিজ খেলার পর ছুটি দেওয়া হয়েছিল জাতীয় দলকে। সেই ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার ক্যাম্প শুরু করেছে ফুটবলাররা। প্রচণ্ড রোদে শেখ জামাল ধানমন্ডি মাঠে ঘণ্টা দেড়েক তাদের অনুশীলন করান কোচ। রানিং, স্ট্রেচিংসহ সব অনুশীলনই হয়েছে কাল। তবে পুরো দল কাল পাননি টিটু। ১৮ জন নিয়ে হয়েছে প্রথম দিনের অনুশীলন। দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দুদিন পর অনুশীলনে যোগ দেবেন। এ ছাড়া চোটের কারণে গতকাল বলতে গেলে বিশ্রামেই কেটেছে আরেক ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানীর। সানজিদা আক্তার ও তহুরা খাতুনের জ¦র বলে অনুশীলন করেননি। আনাই মোগিনি এক দিন পর আসবেন। বিকেএসপির খেলোয়াড়রা আজই ক্যাম্পে ওঠার কথা। প্রথম দিনের অনুশীলন দেখে টিটুর মনে হয়েছে ফিটনেসে কিছুটা ঘাটতি আছে। বিশ^কাপে নিয়মিত খেলা জাপান ও ভিয়েতনামের মতো দলের বিপক্ষে লড়তে হলে সেরা ফিটনেস নিয়েই মাঠে নামার পক্ষে টিটু, ‘আগে যা ট্রেনিং করত, সেটাই চলেছে। জাপান, ভিয়েতনাম, নেপালের সঙ্গে খেলতে হবে। সেটা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যে দলকে দেখেছিলাম, আজ মনে হয়েছে ফিটনেসে কিছুটা ঘাটতি আছে। ওখানে ফোকাস থাকছে। জাপানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে ফিটনেস লাগবেই। প্রস্তুতি ম্যাচ পাব কি না, জানি না। তবে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ১৬ দল পাওয়া যায় কি না, দেখতে হবে। হংকংয়ে ২০০৯ সালে কোর্স করতে গিয়ে দেখেছিলাম সেখানকার জাতীয় দলকে বয়সভিত্তিক দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে। আসলে ছেলেদের সঙ্গে তো পেরে ওঠা কঠিন। আমরা যদি এমন ম্যাচ খেলতে পারি ভালো হবে।’

এদিকে এশিয়াডে ড্র অনুষ্ঠানের পর থেকেই বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে অন্য রকম একটা রোমাঞ্চ কাজ করছে। সাবেক বিশ্বকাপজয়ী জাপানের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই অনেক বড় কৃষ্ণার কাছে। জাপানের বিপক্ষে বাংলাদেশ কত গোলে হারবে, এ নিয়ে যখন অনেকেই হিসাব কষতে শুরু করেছেন, তখন কৃষ্ণা দিচ্ছেন ভয়ডরহীন ফুটবল খেলার প্রতিশ্রুতি, ‘জাপান খুবই শক্তিশালী দল। কতটা শক্তিশালী, সেটা সবাই জানি। ওদের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে খেলতে নামব, আমি এতেই রোমাঞ্চিত। এ ছাড়া আমাদের গ্রুপে বিশ^কাপ খেলা ভিয়েতনামও আছে। এ রকম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে অনেক কিছু শেখার আছে, যা পরে কাজে লাগবে।’