দুর্নীতির পক্ষে সাফাই ভিসির

প্রতিবেদন প্রকাশ করে বহিষ্কার কুবি শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) একটি অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ার কুবি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। গত সোমবার কুবির মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে ওই বক্তব্য দেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল বুধবার এক অফিস আদেশে ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত সোমবার মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্যকে বিকৃত করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তমূলক তথ্য প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণœ করার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি  বিবেচনায় প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদন ও সুপারিশে গতকাল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।

প্রক্টরিয়াল বডির সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। তবে আমরা কোনো সাংবাদিককে বহিষ্কারাদেশের জন্য সুপারিশ করিনি। আমরা শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন আইনে বা নিয়মে ইকবাল মনোয়ারকে বহিষ্কার করা হয়েছে, জানতে চাইলে কুবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।’ এ বিষয়ে ‘উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের বক্তব্য জানতে একাধিক সংবাদকর্মী ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন মনোয়ার ইকবাল। গত সোমবার কুবির মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘অনেকে বলে দেশে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না। কিন্তু আমি বলব উল্টো কথা। দেশে দুর্নীতি হচ্ছে বলেই উন্নতি হচ্ছে। এটা নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন কথা বলতে পারে। যে ঘুষ খায়, সে পদ্মা পাড়ে যায় ইলিশ খেতে। এতে পদ্মা পাড়ের গরিব মানুষরা ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাই অর্থনীতিবিদরা দুর্নীতি নিয়ে কখনো কোনো বিরূপ মন্তব্য করে না। তবে যারা পলিটিক্যাল ইকোনমি নিয়ে কাজ করে, তারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে থাকে। নৈতিকতার জায়গায়ও এটি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে অর্থনীতির জায়গা থেকে যদি বলি, দুর্নীতি কখনোই উন্নয়নের জন্য বাধা নয়।’