কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক মনোয়ারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে আলটিমেটাম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইকবাল মনোয়ারের বহিষ্কারাদেশ আজ শুক্রবারের মধ্যে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন মাহি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোরকম আইনের তোয়াক্কা না করে এবং কোনো বিধি না মেনে ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। যে সংবাদের জন্য ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে সে সংবাদের সব তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। প্রশাসন বলেছে, উচ্চপর্যায়ের সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু কারা আছেন এ উচ্চপর্যায়ের সভায় এবং কোন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ইকবালকে বহিষ্কার করেছে, তার কিছুই উল্লেখ করেননি প্রশাসন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলে আগামী রবিবার পুরো বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মানববন্ধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক বহিষ্কারের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। পাশাপাশি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও প্রেস ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও প্রেস ক্লাব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও প্রেস ক্লাব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

গত ৩১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন দুর্নীতি নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে, উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচারে’র অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী ইকবাল মনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।