রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চক্রটি গৃহপরিচারিকা সেজে বাসায় কাজ নিয়ে সুযোগ বুঝে কৌশলে গৃহকর্ত্রীকে অজ্ঞান করে বাসার নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই (ঢাকা মেট্রো-উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম। এর আগে বুধবার কোতোয়ালি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইর একটি দল।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজধানীর নিউ ইস্কাটন দিলু রোডের নিজের বাসায় মাসে ৬ হাজার টাকা বেতনে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর গৃহকর্মী নিয়োগ দেন মনোয়ার আলী (৬৬)। ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় স্ত্রী ও গৃহকর্মী নূরজাহানকে রেখে অফিসে যান। আমেরিকায় থাকা মেয়ে ফোন করে জানান, মা ফোন রিসিভ করছে না। বাসায় ফিরে স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় পান। তছনছ পুরো বাড়ি। নূরজাহান নামে নিয়োগ পাওয়া গৃহকর্মী নেই বাসায়।
পরে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সোয়া ১১টার মধ্যে স্ত্রী রেজিনা রহমানকে (৫৫) বাসায় একা পেয়ে কাজের মহিলা নূরজাহান ও অজ্ঞাত আরও একজন মিলে কৌশলে অজ্ঞান করে বাসায় থাকা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং একটি স্বর্ণের বালা ও একটি স্বর্ণের চামচ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পিবিআইর এই কর্মকর্তা আরও জানান, স্ত্রী সুস্থ হলে মনোয়ার আলী হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার দায়িত্ব থানা পুলিশ থেকে পিবিআইর কাছে যাওয়ার পর খোঁজ মেলে ছদ্মবেশী নূরজাহানের। তার আসল নাম বিলকিস। পেশাদার চক্রের সদস্য তিনি। একেক বাসায় একেক নামে গৃহকর্মীর কাজ নেন। এরপর সুযোগ বুঝে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করেন।
মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাশের বাসার দারোয়ান গোলাম মোস্তফার সহযোগিতায় ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী মনোয়ারের নিউ ইস্কাটনের বাসায় কাজের সুযোগ নেন নূরজাহান। মামলার বাদী সরল বিশ্বাসে ধূর্ত নূরজাহানকে তার বাসায় কাজ করার জন্য প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেন। এর তিন দিন পরই চুরির ঘটনা ঘটে।