কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ নিধনকারী চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বন বিভাগের অবহেলায় একের পর এক সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচার করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ গাছ নিধনকারী চক্র। এ চক্রকে থামাতে না পারলে অচিরেই বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন বন বিটের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন, বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে প্রতিনিয়তই দিনে-রাতে সমানতালে পাচার হচ্ছে লাখ লাখ টাকার গাছ-কাঠ। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে শুরু করে সামাজিক বনায়নও রেহাই পাচ্ছে না। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে বারবাকিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন বন বিটের গাছ-কাঠ পাচারের মহোৎসব!
জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ফান্ডসহ সরকারি অর্থায়নে সৃজিত বন-বাগান ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ অফিসের আওতায় তিনটি বন বিট থেকে চলছে কাঠ পাচারের মহোৎসব। পাচার হওয়া এসব কাঠ-গাছ পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে স্থাপিত অবৈধ করাতকলে নিয়ে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পাচার হওয়া গাছ-কাঠের মধ্যে রয়েছে আকাশমণি, জারুল, জাম, গামারি, কড়ই ও গর্জনসহ নানা প্রজাতির গাছ। দিনে এসব গাছ কেটে রাতভর তা পেকুয়ার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে আশপাশের বিভিন্ন স’মিলে পাচার করা হয়। রাত যত গভীর হয় পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে পেকুয়ার বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে গাছ-কাঠ পাচারের উৎসব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বন বিটের পাশেই ধনিয়াকাটা মাঝেরপাড়া থেকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে রুস্তম আলী নামের এক সাবেক ইউপি সদস্য ও তার এক ছেলে। গত ৩০ জুলাই দুপুরে সরেজমিনে রুস্তম আলী কর্তৃক সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার দৃশ্য সরাসরি দেখতে পেয়েছেন এ প্রতিবেদক। রুস্তম আলী ও তার এক ছেলে কর্তৃক গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে বারবাকিয়া বন বিট কর্মকর্তা আলতাফ হোছাইন সরেজমিনে এসে রুস্তম আলীকে আর গাছ না কাটার জন্য নির্দেশ দেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক ইউপি সদস্য রুস্তম আলীর নেতৃত্বে উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন বিটের নিয়ন্ত্রণাধীন বনাঞ্চল থেকে প্রতিদিন নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কাটা হচ্ছে। রুস্তম আলীর কারণেই বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সরকারি বৃক্ষ গণহারে নিধন হচ্ছে।
বারবাকিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী মাহমুদুল করিম অভিযোগ করে বলেন, বন বিভাগকে গাছ পাচার রোধে ব্যবস্থা নিতে বললেও তারা কথা শুনে না। বারবাকিয়ার বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ অভিযোগ করে বলেন, ‘টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটার মাঝেরপাড়ার রুস্তম আলী ও তার এক ছেলের কারণেই বনাঞ্চল নিধনের পাশাপাশি জবর দখলও হচ্ছে।
রুস্তম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দম্ভ নিয়ে বলেন, ডিএফও-রেঞ্জারের দপ্তর আমি চিনি। ৫০ বছর ধরে রিজার্ভ জায়গায় বসবাস করছি। আমার গাছ আমি কাটছি, ডিএফও রেঞ্জার আমার কিছুই করতে পারবে না। এ ব্যাপারে বারবাকিয়া বন বিট কর্মকর্তা আলতাফ হোছাইন বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য রুস্তম আলী কর্তৃক গাছ কাটার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রুস্তম আলী অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে বন বিভাগের জায়গা জবরদখল করে রাখার পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। এটা বড় ধরনের অপরাধ।
বিট কর্মকর্তা আরও বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত রুস্তম আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অবশ্যই বন আইনে মামলা করা হবে।