যার যার অবস্থানে অনড় থাকলে সংঘাত হবেই

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এ কে এম শহীদুল হক। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, সভা-সমাবেশে পুলিশি অনুমতি, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, পুলিশের ওপর ভিসানীতির প্রভাব ইত্যাদি নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী

দেশ রূপান্তর : সামনে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। দেশে ২০০৬ বা ২০১৩ সালের মতো পরিস্থিতি হতে পারে কি না?

শহীদুল হক : বাংলাদেশে অতীতে যত ধরনের ক্রাইসিসই এসেছিল তার সবই এ দেশের জনগণ মিটিয়ে ফেলেছে। সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, জানমালের ক্ষতি হয়েছে কিন্তু একপর্যায়ে তার সমাধান হয়েছে। এবারও আমি বিশ^াস করি তাই হবে। তবে যদি দু-দল যার যার অবস্থানে অনড় থাকে এক দল সংবিধানসম্মত থেকে নির্বাচন করতে চাইবে আর আরেক দল নিরপেক্ষ সরকার না হলে নির্বাচন করবে না; এ রকম যদি অবস্থান নিয়ে থাকে তাহলে তো সংঘাত হবেই। যদি তারা নির্বাচন বয়কট করে সেটা এক রকম। কিন্তু তারা যদি বয়কটের পাশাপাশি নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টা করে তাহলে তো সংঘাত হবেই। সে ক্ষেত্রে ২০০৬ বলেন আর ২০১৩ বলেন, সেসবের পুনরাবৃত্তি হবেই।

দেশ রূপান্তর : বিরোধীদের সভা-সমাবেশে পুলিশি অনুমতি নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দলের সভা-সমাবেশে এমনটা হয় না। আপনার মন্তব্য কী?

শহীদুল হক : দেখেন এখানে একটা প্র্যাকটিস আছে, যেকোনো সভা-সমাবেশ করতে পুলিশকে জানাতে হবে। আইনে কিন্তু সভা-সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি নেওয়ার কোনো বিধান নেই। আইনে যেটা আছে কোথাও কেউ যদি মাইক ব্যবহার করে, লাউডস্পিকার ব্যবহার করে তাহলে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : বিষয়টা কি এমন যে অনুমতি নয়, পুলিশকে অবহিত করতে হবে?

শহীদুল হক : হ্যাঁ। অনুমতির বিষয় নেই, অবহিত করতে হবে। এটা এজন্য যে পুলিশ যেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে, জনসভা করতে দেওয়া না দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু পুলিশের আছে। পুলিশ যদি মনে করে যেকোনো জনসভা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বা জনদুর্ভোগ হবে, নিরাপত্তা বিঘিœত হবে গোয়েন্দা সংস্থার এমন রিপোর্ট থাকলে পুলিশ সেটা করতে দিতে নাও পারে। কিংবা পুলিশ তাদের ভেন্যু বদলাতে বলতে পারে। আর সড়ক-মহাসড়কে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে, পুলিশের এটা কম্পোলসারি ডিউটি ওই প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা। এখন রাস্তা বন্ধ করে, যানজট তৈরি করে মিছিল, মিটিং করবেন অবহিত না করে বা অনুমতি না নিয়ে পুলিশ তো সেটা করতে দিতে পারে না। পুলিশ তার আইনগত দায়িত্ব পালন করলে আপনি সেটা করতে পারবেন না।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু সড়কে তো সভা-সমাবেশ হচ্ছে...

শহীদুল হক : রাজনীতির ক্ষেত্রে পুলিশ আইনের বাইরে গিয়েও কম্প্রোমাইজ করে। ফলে বাস্তবতার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোকে রাস্তায়, সড়কে সভা-সমাবেশ করতে দেয়। এ ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ বাড়ে, যান চলাচলকে ডাইভার্ট করে অন্য রুটে নিতে হয়। কিন্তু পুলিশ যদি মনে করে এটা করতে দেওয়া ঠিক হবে না, তাহলে সেটা করতে না দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে।

দেশ রূপান্তর : সভা-সমাবেশের স্থানের ক্ষেত্রে বিরোধীদের শর্ত দেওয়া হলেও ক্ষমতাসীনরা যেখানে সভা করতে চান সেখানেই পারেন। আপনার মন্তব্য কী?

শহীদুল হক : সরকারি দল যেখানে চায় সেখানে সভা করতে পারে এটা ঠিক না। সরকারি দলকে বলা হয়েছিল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সভা না করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে করতে। সেখানে অনুমতি পায়নি বলে তারা আগারগাঁও গিয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ছিল বলে তারা সেখানেও করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নানান কিছু বিবেচনায় তাদের দক্ষিণ গেটেই করার অনুমতি দেওয়া হয়। যেহেতু বিএনপি নয়াপল্টনেই করছে, কাজেই তারা দক্ষিণ গেটেই করুক। কাজেই এটা ঠিক না যে সরকারি দল যেখানেই চায় সেখানেই সভা করতে পারে। অনুমতি ছাড়া সরকারি দল কোনো সমাবেশ করতে পারে না। আর শর্তও সবাইকে দেওয়া হয়। সম্প্রতি যে দুটি মিটিং হলো সেখানে ২৩টি শর্ত বিএনপিকেও দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগকেও দেওয়া হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : সামনে জাতীয় নির্বাচন। অন্যদিকে বড় দুটি দল বিপরীতমুখী দাবি নিয়ে সরব হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংঘাত এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

শহীদুল হক : নেগোসিয়েশনের বিকল্প তো কিছু নেই। দু-দল যদি এক টেবিলে বসে যার যার অবস্থান উপস্থাপন করে, আলোচনা করে, প্রস্তাবনা রাখে তাহলে তো একটা সমাধান চলে আসার কথা। আর নেগোসিয়েশনে গেলে দেখবেন তাদের মধ্যকার বৈরিতাও কমে আসবে।

দেশ রূপান্তর : না, ধরেন বড় দু-দলের সর্বশেষ সমাবেশের দিন বাঙলা কলেজের সামনে যে ঘটনাটা ঘটল। কথা হচ্ছে পরস্পরবিরোধী দু-দলের কর্মসূচি এক দিনে হলে এটা খুবই স্বাভাবিক যে কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে দু-দলকেই পরস্পরকে পার হয়ে যেতে হবে। যুদ্ধংদেহী মনোভাব থাকলে বুলিং, টোন করা থেকে তো সংঘাত বেধে যাবেই। সামনে কী হবে?

শহীদুল হক : দুটি দলই তো অনেক বড়। তাদের নেতাকর্মী, সমর্থক অনেক। সবাই কিন্তু এক মেজাজের না। নেতাদের নির্দেশনা, পরিকল্পনার বাইরেও অনেক কিছু হয়ে যায়। কর্মীরা অনেক সময় অনেক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। হঠাৎ করে কেউ একটা ঢিল মেরে বসলে বিপরীত থেকে পাটকেল না আসার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এটা দেখা গেল নেতার নির্দেশনা বা পরিকল্পনায় ছিল না।

দেশ রূপান্তর : ভিন্নমতকে সহনশীলভাবে দেখার কোনো মোটিভেশন কি দেখতে পান?

শহীদুল হক : সেই মোটিভেশন আছে। সেটা না থাকলে সংঘাত হতো। বিএনপিও বলছে আমরা সংঘাত চাই না, আওয়ামী লীগও বলে সহিংসতা চাই না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তো বলেছেনই, আমরা ক্ষমতায় আছি, এখন সংঘাত-সহিংসতা হলে আমাদেরই সমস্যা। আর বিএনপির নেতৃত্ব তো মনে করে সংঘাত-সহিংসতা হলে তারা তো মামলার আসামি হবে। এটা তো তাদের জন্য সমস্যা।

আমি তো মনে করি সর্বশেষ যে কটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হলো পাশাপাশি, একই দিনে, এসব কর্মসূচিতে উভয় দলের কর্মী-সমর্থকদের আচরণ অনেক সংযত ছিল, সহনশীল ছিল। এই পরিবর্তনটা দেখতে পাচ্ছি। এটা যদি তারা ধরে রাখতে পারে তাহলে আমাদের রাজনৈতিক চর্চায় গুণগত পরিবর্তন হবে, যা দেখা যাচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জগুলো কী ধরনের হয়?

শহীদুল হক : নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রকেন্দ্রিক একটা সমস্যা হয়। অনেকেই ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। দলগুলো যদি এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সেই সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে তারা নির্বাচনে ডিস্টার্বেন্স তৈরি করে। এ ছাড়া নির্বচনকালে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশের দরকার হয়। ভোটকেন্দ্র বেশি হলে পুলিশের ডিপ্লয়মেন্ট কমে যাবে। তাই ভোটকেন্দ্র কম থাকলে চ্যালেঞ্জটা কমে আসে, ফোর্স বাড়িয়ে দেওয়া যায় তখন। আর আচরণবিধির যেটা আছে প্রার্থী, সমর্থক সবাই যদি সেটা মেনে চলেন, তাহলে পুলিশের চ্যালেঞ্জ অনেক কমে যায়। নির্বাচনী আচরণবিধি মানানো একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এ ক্ষেত্রে শুধু পুলিশ না, নির্বাচন কমিশনকেও কঠোর হতে হবে।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু গাইবান্ধার উপনির্বাচনে দেখা গেল কমিশন বাধ্য হয়ে নির্বাচন স্থগিত করল। কিন্তু এর আগে কমিশনের নির্দেশ মাঠে দায়িত্বরত পুলিশসহ কর্মকর্তারা মানছিলেন না। এ ক্ষেত্রে কী করার আছে?

শহীদুল হক : এমন হলে তো নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু এটা নিয়ে একটু কনফিউশন আছে। কমিশন তো শাস্তি দিতে পারে না।

শহীদুল হক : না কমিশন যখন কোনো অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে, সেই কর্মকর্তা বা অফিসারের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নিতেই হবে।

দেশ রূপান্তর : গাইবান্ধার ঘটনায় কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা আমরা জানি না কমিশন অভিযোগ করার পর তাদের শাস্তি হলো কি না।

শহীদুল হক : কমিশন যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে একটা ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হয়েছে। যদি না নিয়ে থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশনের সেটার খোঁজ নেওয়া উচিত। তারা অভিযোগ করল, ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিল অথচ কিছুই হলো না, এটা তো হতে পারে না।

দেশ রূপান্তর : ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে দেখলাম ভোটকেন্দ্রের ভেতর আক্রান্ত প্রার্থীকে সেভ ও নিরাপত্তা রক্ষা করল পুলিশ। কিন্তু তাকে বাইরে যাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো তাদের দ্বারা তিনি আক্রান্ত হলেন। কী বলবেন?

শহীদুল হক : ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকবেন তাদের তো কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পেরিফিরিতে থাকতে হবে। এখন ভোটকেন্দ্রের বাইরে যখন সে চলে যায় সেখানে কে কী করেছে সেটা তো ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে যারা তারা তা বলতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রর বাইরে যে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকে, মোবাইল টিম থাকে তারা দেখবে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে পরিস্থিতি তো তারা সামলাবে।

দেশ রূপান্তর : সেটা তো ছিল, কিন্তু বিজিবির টহল গাড়ির কাছে গিয়ে হিরো আলম সাহায্য চাইলেও পেলেন না। তারা গাড়ি থেকেই নামেনি।

শহীদুল হক : আমার ধারণা বিজিবির ফোর্স বুঝতে পারেনি যে সে আক্রান্ত বা তার ওপর হামলা হয়েছে। আর বুঝেও তারা যদি তাদের ডিউটি ওভারলুক করে থাকে তাহলে তো তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। এই অভিযোগ সিরিয়াসলি নিতে হবে। সে যদি প্রার্থী না হয়ে অন্য যে কেউ হলেও সে আক্রান্ত হয়ে সাহায্য চাইলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আশ্রয় চাইলে তাকে প্রোটেকশন দিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচনের আগে পুলিশের বিভিন্ন পদে রদবদল ও পদায়নকে কীভাবে দেখছেন?

শহীদুল হক : আমি মনে করি এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো রুটিন অনুযায়ী হচ্ছে। পদায়ন যেখানেই হোক, সে তো এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে গিয়েও নির্বাচনের ডিউটিই করবে, আগেও যা করতে হতো।

দেশ রূপান্তর : পুলিশের আচার-আচরণ ও বিশেষ করে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের ওপর দেওয়া স্যাংশন ও মার্কিন ভিসানীতির প্রভাব কতটা পড়েছে?

শহীদুল হক : এটা স্যাংশন বা ভিসানীতির প্রভাব কি না আমি জানি না, তবে সরকার চাচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে একটা সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আমার মনে হয়েছে এটা প্রধানমন্ত্রী মনেপ্রাণে চান। এজন্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন দলগুলো বাধাহীনভাবে করতে পারে তার নির্দেশনা রয়েছে। যতক্ষণ না তারা ভাঙচুর, সন্ত্রাস, সহিংসতা, ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম না করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ওভার রি-অ্যাকশনে না যায় সে নির্দেশনা রয়েছে। আমার মনে হয় সেটাই কাজ করেছে।

এখন ভিসানীতির কথা যদি বলেন, ধরেন রাস্তায় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে কনস্টেবল কাজ করছেন, তিনি এই ভিসানীতি দিয়ে কী করবেন? তিনি তো সারাজীবনেও ইউরোপ-আমেরিকায় যাবেন না বা এএসআই বা এসআইদের কথাও যদি ধরেন, কজন সাব-ইন্সপেক্টর আমেরিকা যাবেন? কাজেই যারা দায়িত্ব পালন করছেন ভিসানীতি তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফেলে নাই। তাদের সব সময় যেটা ব্রিফিং দেওয়া হয় যে সরকারের এই নির্দেশনা আছে, তোমরা এই এইভাবে কাজ করো। আগের সেই পুলিশ তো আর এখন নেই। পুলিশকে বারবারই বলা হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে না, অমানবিক কাজ করবে না, মানুষের একটা প্রত্যাশা আছে সেটা নষ্ট করা যাবে না। এ কথাগুলো সব সময় পুলিশকে আমরা বলে আসছি। এর একটা প্রভাব পুলিশের লোয়ার লেভেল পর্যন্ত পড়েছে। আর ভিসানীতি, স্যাংশন সেটা তো ওপর লেভেলে যারা থাকে, সেই গুটিকয়েকের জন্য। কাজেই গ্রসরুট লেভেলে ভিসানীতি, স্যাংশন নিয়ে কোনোরূপ চিন্তাভাবনাই নেই।

দেশ রূপান্তর : দু-তন দিন আগে ভিপি নুরের বাসায় যেভাবে গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঢুকে এক কথিত আসামিকে গ্রেপ্তার করল, সেটা কি ঠিক হয়েছে?

শহীদুল হক : আইনিভাবে পুলিশ অবশ্যই এভাবে আসামি গ্রেপ্তার করতে পারে। পুলিশ যদি কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে যায়, যে বাড়িতে যাবে সেখানে যদি দরজা না খোলা হয় আর পুলিশ যদি শিওর হয় যে সেখানে আসামি আছে, তাহলে দরজা ভেঙে ঢুকে আসামিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ধারা আছে।

বরং নুর খারাপ আচরণ করেছে, সে বলেছে ক্ষমতায় গেলে পুলিশকে দেখিয়ে দেবে, নামপরিচয় নোট করে রাখছে, চেহারা চিনে রাখছে... এসব আপত্তিকর কথাবার্তা বলেছে। আমার প্রশ্ন নুর পুলিশের কী করবে? সে ক্ষমতায় গেলে তো এই পুলিশকেই তার কাজে লাগবে। তার কথাবার্তা খুবই আপত্তিকর।