ভৈরব পল্লী উন্নয়ন কর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

গুন্ডা এনে অধীনস্তদের পেটানোর হুমকি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কর্মকর্তা মোবারক হোসেন খানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, আক্রমণাত্মক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালাগাল, এমনকি গু-া এনে শায়েস্তা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এইসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিআরডিবির কিশোরগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন এই অফিসে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠ সংগঠক। যার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও।

তিন পাতার ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন খান অফিসের বিভিন্ন কেনাকাটা বাবদ থাকা টাকা নিজের কাছে রেখে সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে নিজস্ব টাকায় কেনাকাটা করতে বলেন।

মনিরুজ্জামান অফিসের কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে ভাউচার জমা দিয়ে বিল চাইলে তিনি না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি তিনি অফিসের অপর ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠকর্মীদের অবগত করান। আর এই অবগত করানোর অপরাধে তিনি মনিরুজ্জামানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং উল্টো থানায় তার নামে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ভৈরব থানার ওসি মাকছুদুল আলম মনিরুজ্জামানকে ফোন করে তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চান এবং তিনি মামলা করতে থানায় গিয়েছেন বলে জানান।

পরদিন তিনিসহ সব কর্মকর্তা, মাঠ পরিদর্শক, মাঠকর্মী উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মোবারক হোসেন খানের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তিনি ভীষণ রেগে অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন এবং সবাইকে তার রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড থেকে গু-া এনে তাদের শায়েস্তা করার হুমকি দেন।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির, পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন ও তোফায়েল, গ্রাম সংগঠক করুণা রাণী দাস, অভিজিৎ দাস, সীমা বেগম, শিরীন সুলতানা ও সিয়াম মিয়া।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন খান বলেন, একসঙ্গে চলতে গেলে কিছু ঝুটঝামেলা হতেই পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।