মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ডহরী তালতলা খালে শনিবার রাতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবিতে সাতজন নিহত হয়। তবে প্রশাসন বলছে, এ পথে বাল্কহেড চলাচলে ছিল নিষেধাজ্ঞা। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা দায়ের হয়েছে।
রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। ট্রলারডুবিতে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করছে। এ ঘটনায় নিহত হ্যাপি ও পপির ভাই রুবেল বাদী হয়ে বাল্কহেডের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আরাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার সকালে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন শেষে কমিটি জানায়, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু বহনকারী বাল্কহেড চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আটক বাল্কহেডটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল মতিন জানান, শনিবার রাত ২টা পর্যন্ত আমাদের উদ্ধার অভিযান চলমান ছিল। পরে কিছু সময় বন্ধ রেখে রবিবার ভোর থেকে আবার উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ট্রলারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। তবে নিখোঁজ থাকা কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, শনিবার রাতে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এরা সবাই সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন হ্যাপি আক্তার (২৮), তার বোন পপি আক্তার (২৬), রাকিব (১২), তার ভাই সাকিব (৮), মোকসেদা (৪০), সাজিবুল (৫) ও ফারিহান (১০)।
তবে শনিবার রাতে ফায়ার সার্ভিস আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল। নিখোঁজের সংখ্যা বলেছিল পাঁচজন। পরে তারা সংশোধন করে নিহত সাত এবং নিখোঁজ তিনজন বলে জানায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. মো. আব্দুল আউয়াল দেশ রূপান্তরকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খালটি দিয়ে বালু বহনকারী বাল্কহেড চলাচল করেছে। আমরা গত বছর বালিগাও ব্রিজের নিচে বাঁশ দিয়ে ব্রাকেট দিয়েছিলাম। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এসব নৌযান চলাচলের।
তিনি আরো জানান, আমরা কঠোর নজরদারি রাখব, সে সঙ্গে যদি কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খালটি দিয়ে বালু বহনকারী বাল্কহেড চালায়, তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ঈমাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা বাল্কহেডটিকে আটক করেছি। ঘটনায় নিহত হ্যাপি ও পপির ভাই মামলার বাদী হয়েছেন। দুপুর ২টার দিকে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
জেলার সিরাজদিখানের লতব্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিবার নিয়ে ৪৬ জন পদ্মা নদীতে ঘুরতে যায়। ঘোরা শেষ করে বালিগাওয়ের ডহরী খাল দিয়ে রাত ৮টার দিকে বাসায় যাওয়ার পথে হঠাৎ করে বেপরোয়া বালু বহনকারী বাল্কহেড এসে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রলারটি ডুবে যায়। তাৎক্ষণিক কেউ কেউ সাঁতার তীরে চলে আসেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।