আমদানি মূল্যের চেয়ে হার্টের পেসমেকারের দাম বেশি

দেশে আমদানির মূল্যের চেয়ে রোগীদের কাছে অনেক বেশি দামে হার্টের পেসমেকার ও ভালভসহ মেডিকেল ডিভাইস বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এটি চাল-ডালের কোনো ব্যবসা নয়, এটি জীবনরক্ষাকারী পণ্যের ব্যবসা। এ ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মেডিকেল ডিভাইসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ও দামের যে তথ্য আমরা পেয়েছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা অ্যানালাইসিস করে যে তথ্য পেয়েছি, এ দুইয়ের দামের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাদা একটি স্টাডি করেছি, সেখানেও এসব পণ্যের দামে বিস্তর ফারাক পেয়েছি।

সভায় জানানো হয়, আজ সোমবার দাম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী অবস্থা জানানো হবে।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল ডিভাইস বিশেষ করে স্টেন্টের দামগুলোর বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হয়। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটা হলো প্রাইভেট হাসপাতাল। তাদের সঙ্গে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর একটি বোঝাপড়া থাকে। তারা নিজেরা ইচ্ছেমতো দাম দিয়ে সেগুলো কেনাকাটা করে এবং বিক্রিও সেই অনুযায়ী একটা দাম নির্ধারণের মাধ্যমে করে। বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের দামের পার্থক্য আছে এটা ঠিক, তবে আমরা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হলেও তারা নয়। ভারতে পর্যাপ্ত স্টেন্ট তৈরি হয়। তাই তারা কম মূল্যে রোগীদের দিতে পারে। তারা পাঁচ বছর আগেই স্টেন্টের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, এর বেশি রোগীদের থেকে নেওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের দেশে এমন কোনো পদ্ধতি নেই।