বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স টি-টোয়েন্টিতে মার্শ

অ্যাশেজ সিরিজের শেষ ম্যাচে কব্জিতে চোট পেয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কামিন্সকে অধিনায়ক করেই বিশ্বকাপের জন্য ১৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।

বিস্ময়করভাবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি টেস্ট তারকা মার্নাস লাবুশেনের। আনকোরা তরুণ লেগ-স্পিনার তানভীর সাংঘা ও অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডিকে রাখা হয়েছে দলে।

আগামী ৫ অক্টোবর টুর্নামেন্ট শুরুর কাছাকাছি সময়ে ১৮ জন থেকে তিনজন বাদ দিয়ে ১৫ জনে নামিয়ে মূল স্কোয়াড ঘোষণা করবে তারা। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে মূল স্কোয়াড ঘোষণা করতে হবে দলগুলোকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে কব্জি ভেঙে যায় কামিন্সের। তখন জানানো হয়েছিল এই ইনজুরি সেরে উঠতে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ লাগবে। তাই তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কিছুটা হলেও শঙ্কা ছিল। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে অজিদের নেতৃত্বে থাকছেন তিনিই। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই খেলায় ফিরে আসার আশা করছেন তারা। ‘গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ অভিযানের আগে প্যাটের জন্য বিশ্রামের সময়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। বিশ্বকাপের আগে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারবে যা ওর ভালো প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট’ বলেছেন প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি।

আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবে অস্ট্রেলিয়া। সেই দলে তানভীর ও হার্ডির মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তানভীর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আগের টি-টোয়েন্টি সফরের অংশ ছিলেন। তবে এখনো অভিষেক হয়নি। স্পিন-বান্ধব ভারতীয় পিচগুলোতে অ্যাশটন আগার ও অ্যাডাম জাম্পার পাশাপাশি আরেকটি স্পিন বিকল্প হিসেবেই ভাবা হচ্ছে তাকে।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক বলা যায় লাবুশেনের বাদ পড়া। অভিষেকের পর অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ ওয়ানডের ৩০টিই খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুটা দারুণ হলেও তা ধরে রাখতে পারেননি। যে কারণে জায়গা হারাতে হলো বিশ্বকাপে। অলরাউন্ডারের জায়গার জন্য হার্ডিকে অবশ্য মিচেল মার্শ, মার্কাস স্টয়নিস এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

এদিকে মিচেল মার্শকে অস্ট্রেলিয়ার নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। আপাতত শুধু এক সিরিজের জন্য অধিনায়ক করা হলেও লম্বা সময়ের জন্য মার্শের নেতৃত্ব পাওয়া একরকম নিশ্চিত। অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে। অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও দেখা যাবে এই সিরিজ থেকে। বিগ ব্যাশে ওপেনিংয়ে চমকপ্রদ সাফল্যের পর এবার জাতীয় দলেও ইনিংস শুরু করতে দেখা যাবে স্টিভেন স্মিথকে। তিন বছর পর বিগ ব্যাশে খেলতে নেমে ২৭ বলে ৩৬,  ৫৬ বলে ১০৭। ৬৬ বলে ১২৫ এবং ৩৩ বলে ৬৬ করেন স্মিথ। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৫৮ ইনিংস খেললেও কখনো ওপেন করেননি স্মিথ।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দল : প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), শন অ্যাবট, অ্যাশটন অ্যাগার, অ্যালেক্স ক্যারি, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, তানভির সাঙ্ঘা, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যাডাম জ্যাম্পা।

অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দল : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), শন অ্যাবট, জেসন বেহরেনডর্ফ, টিম ডেভিড, ন্যাথান এলিস, অ্যারন হার্ডি, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, স্টিভেন স্মিথ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জ্যাম্পা।