সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষায় করণীয়

বর্তমান সময়ের এক আতঙ্কের নাম সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মারা যান অনেক মানুষ। দুর্ঘটনা একটি ছোট্ট শব্দ, কিন্তু এর বিভীষিকা অনেক বেশি। একেকটি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় হাজারো জীবন, বেঁচে থাকার স্বপ্ন। দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে যায় অনেক অমূল্য জীবন, হাজারো সম্ভাবনা। বলতে গেলে, সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে গাড়ি চালানোর সময় কিছু বিষয় মেনে এবং কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে চলতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত গাড়ির দেখভাল এবং যতœ নিলে যেকোনো ধরনের টেকনিক্যাল ভুল হওয়ার সুযোগ কম। তাই গাড়ি বের করার আগে গাড়ির বিভিন্ন পার্টস ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে নেওয়া। গাড়ির গতি কমিয়ে চলা, ঝুঁকিপূর্ণভাবে অন্য গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ড্রাইভিং না করা। সবসময় সচেতন হয়ে সাবধানে চললে, দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতার পাশাপাশি দোয়ার শিক্ষা রয়েছে হাদিসে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সব ধরনের বিপদাপদ ও অসুবিধা থেকে বাঁচতে একটি দোয়া পড়ার কথা বলেছেন আল্লাহর রাসুল (স.)। দোয়াটি হলো

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে, আল্লাহতায়ালার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহতায়ালার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই।’

সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহতায়ালাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। জামে তিরমিজি : ৩৪২৬

দৈনন্দিন জীবনে কোথাও যাওয়ার জন্য নানা ধরনের যানবাহনে আরোহণ করি। এ সময় আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে দোয়া করা সুন্নত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বাহনে আরোহণের সময় একটি দোয়া পড়তেন। তা হলো

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হাজা, ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়াইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজা বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা। আল্লাহুম্মা হাউইন আলাইনা সাফারানা হাজা, ওয়াতবি আন্না বুদাহ। আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মি উয়াসাইস সাফারি ওয়া কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহাল।

অর্থ : ওই সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি আমাদের জন্য এই বাহনকে বশীভূত করেছেন। আমরা তা বশীভূত করতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। হে আল্লাহ! এই সফরে আমরা আপনার কাছে কল্যাণ, আল্লাহভীতি ও তোমার সন্তুষ্টিদায়ক আমল চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এই সফরকে সহজ করুন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি সফরসঙ্গী এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানকারী। হে আল্লাহ! আপনার কাছে সফরের কষ্ট, অপ্রীতিকর দৃশ্য এবং ফেরার পর সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

যখন নবী করিম (সা.) সফর থেকে ফিরতেন তখনো এই দোয়া পড়তেন এবং অতিরিক্ত বলতেন ‘আইবুনা, তাইবুনা আবিদুনা লি রাব্বিনা হামিদুন।’

অর্থ : আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গোনাহ থেকে তওবাকারী, আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী।

হাদিসে আছে, হজরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সফরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাহনে আরোহণ করতেন, তখন তিনি তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। এরপর (উল্লিখিত) দোয়াটি পড়তেন। এরপর সফর থেকে ফিরেও দোয়াটি পড়তেন এবং অতিরিক্ত দোয়াটি পড়তেন। সহিহ মুসলিম : ১৩৪২