মেলা নিয়ে কুলাউড়ায় সংঘাতের শঙ্কা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়ন এলাকায় মাসব্যাপী হস্ত ও কুটিরশিল্প মেলার অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ দোকান মালিকরা। স্থানীয়দের না জানিয়ে এ মেলার আয়োজন করায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কানিকিয়ারি গ্রামসংলগ্ন মাঠে এ মেলার আয়োজন করেছে মা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। এর দায়িত্বে রয়েছেন আবিদ হাসান লিটন নামে এক ব্যক্তি। মেলা বন্ধের দাবিতে দফায় দফায় বাজার এলাকায় বৈঠক হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় মাইকিং করে সভাও করা হয়েছে। সর্বশেষ ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকর্মীরা গত বুধবার মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ জেলা প্রশাসক বরাবর মেলা বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। মেলার সরগরমে এলাকার কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রীরা পড়বেন সমস্যায়। এ ছাড়া রবির বাজার একটি গ্রাম্যবাজার। এখানে সাধারণ লোকজন আসেন বাজার করতে। মাসব্যাপী এ মেলা চললে এখানকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

রবির বাজারের বাবুল আহমদ নামে এক দোকান মালিক বলেন, মাসব্যাপী কথিত এই মেলা সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান জানেন না। নেই স্থানীয় কোনো উদ্যোক্তাও। তাহলে কার স্বার্থে, কারা সুদূর থেকে এসে এমন বড়সড় আয়োজন করতে যাচ্ছে?

তিনি আরও বলেন, গ্রামের ভেতর কথিত এই মেলা মানুষের পকেট কাটার ধান্দা আর অর্থনৈতিক লুটপাট ছাড়া আর কিছু নয়। তাছাড়া মাদক, অশ্লীল নাচ, বিকৃত রুচির গানবাজনা এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অসামাজিক করে তুলবে। এলাকায় নানা প্রকার অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করবে।

রবির বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম বলেন, এ মেলা বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিমিউর রহমান চৌধুরী ফুল বলেন, মেলা সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদ অবগত নয়। এখানে মেলা না করার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানিয়েছি।

মেলার দায়িত্বে থাকা আবিদ হাসান লিটন জানান, তিনি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন। মেলার কাজও চলছে। আগামী ১৭ আগস্ট মেলা উদ্বোধনের কথা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, বিভিন্ন শর্তে ডিসি অফিস থেকে এ মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজনকারীদের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা যাতে শান্ত থাকেÑ সেদিক বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোনো সংঘাতের সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রবির বাজার এলাকার বাসিন্দা, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আসনের সাবেক সাংসদ নবাব আলী আব্বাস খান বলেন, এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। মেলা এখানে না হওয়াই উত্তম হবে।