নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুরে গতকাল শুক্রবার সকালে পানির স্রোতে বড়াল নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে থানা সদরের সঙ্গে পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডসহ তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, সেতুটি থানা সদরের সঙ্গে বড়াইগ্রাম পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং নগর, গোপালপুর ও চান্দাই ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে। কিছুদিন আগে বড়াল নদী খনন করা হয়েছে। ফলে এবার বর্ষা মৌসুমে পানি এসে নদীতে স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। পানির স্রোতে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ব্রিক ওয়াল পদ্ধতিতে নির্মিত সেতুটি নদীতে ধসে পড়েছে। এতে ভরতপুর, গোপালপুর, বাটরা, তালশো, বাঘাইট, মহানন্দগাছা, কুজাইল, মেরিগাছা, মশিন্দা, দোগাছি, কয়েন, ধানাইদহসহ তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের থানা সদরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌরসভা ও লক্ষ্মীকোল বাজারে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে গেছে।
কলেজ শিক্ষক শফীউল হাসান তীতু বলেন, আমাদের এলাকার ৮-১০টি গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই সেতু পার হয়ে বড়াইগ্রাম সরকারি কলেজ, বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে সাত-আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু সেতুটি ভেঙে পড়ায় তাদের লেখাপড়া ঝুঁকির মধ্যে পড়ল।
সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক হোসেন টিপু বলেন, প্রতিদিন এ পথে শত শত সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, ট্রাক-বাস ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে আমাদের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ছাড়াও জরুরি রোগী সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
বড়াইগ্রাম পৌর মেয়র মাজেদুল বারী নয়ন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বিকল্প পদ্ধতিতে যাতায়াত ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।
সেতু ধসে পড়ার খবর পেয়ে পৌর মেয়র মাজেদুল বারী নয়ন, যুব মহিলা লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ শোভন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।