ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিদেশিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘এ দেশে তাদের নজর পড়েছে। ধনী দেশগুলো চীনের উত্থান দেখতে পারে না। আর তাদের এসব সমস্যার মাঝখানে আমাদের ঢোকাচ্ছে । আমরা বৈশ্বিক ঠেলার মধ্যে পড়ে গেছি। তবে শেখ হাসিনা থাকলে চিন্তার কিছু নেই, আমরা এসব ওভারকাম করতে পারব।’
গতকাল শুক্রবার সিলেট সদর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বিদেশিদের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। তারা বিদেশিদের এমন তথ্যও দিয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের এই ১০-১২ বছরে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায় অর্ধেক হয়ে গেছে। হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও নির্যাতনের কারণে এসব হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় আরও ১০ লাখ বেড়েছে। বিএনপি বলেছে, বাংলাদেশ থেকে খ্রিস্টান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশিদের কেউ কেউ এসব বিশ্বাসও করছে। আমি বলব, তারা আসুক, এসে দেখুক এখানে কোনো নির্যাতন হচ্ছে কি না। প্রতিদিন লোক রাস্তায় মরে পড়ে আছে কি না। তারা (বিদেশিরা) এসে দেখে গেলে আমাদের জন্য ভালো।’
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মাথাব্যথা প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৬৭টি দেশে ইলেকশন হয়েছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ২২টি দেশে ইলেকশন হবে। কিন্তু ওগুলোর কোনো খবর-টবর দেখি না। হইচই শুধু বাংলাদেশ নিয়ে। এটা হচ্ছে আমাদের উল্টো দলের (বিএনপি) কারণে। তারা সব সময় বিদেশিদের কাছে নালিশ দেয়। জনগণের কাছে এখন তারা নালিশ পার্টি। আর আমাদের কিছু প্রবাসী আছেন, তারা ওই নালিশ পার্টির অংশ। তারা বাংলাদেশের বিষয়ে প্রতিদিন ইনিয়ে-বিনিয়ে কিছু বলেন, মিথ্যাচার করেন। এর ফলে বিদেশিদের কেউ কেউ বাংলাদেশকে ভয়াবহ দেশ বলে মনে করে।’
যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কংগ্রেসম্যানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা কংগ্রেসম্যান নিয়ে এত চিন্তায় কেন? আপনি কি আমেরিকার কংগ্রেসম্যান। আমেরিকায় ৪৩৫ জন কংগ্রেসম্যান আছেন। তারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াবেন তো বটেই। তারা এলে ভালো। আমাদের দেশ দেখে যাক। তাদের ধারণা, বাংলাদেশ হচ্ছে দারিদ্র্য ও সাইক্লোনের দেশ। কিন্তু এখানে এলে দেখবে, “এরা তো গরিব নয়, বেশ ভালো আছে”। আমরা তাদের ওয়েলকাম করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেসম্যানরা আসছেন মূলত রোহিঙ্গাদের দেখতে। ওখানে তারা কিছু খরচাপাতি দেন। সেই খরচাপাতি আমাদের দেন না। সেটা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে দেওয়া হয়। ওই টাকা-পয়সা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না, হয়তো তারা সেটা দেখবে। যারা আসছেন, তারা হচ্ছেন টাকা অনুমোদন কমিটির সদস্য। এমনিতেই তারা টাকা কমিয়ে দিয়েছেন। আমরা বলেছি, আরও টাকা না দিলে ঝামেলা হবে। হয়তো তারা এলে আমাদের উপকারই হবে। টাকা বাড়াবে। আমাদের জন্য না, রোহিঙ্গাদের জন্য।’
জ্যেষ্ঠ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিদেশে বাড়ি করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো ঠিক জানি না। যদি করে থাকেন, তাহলে আপনারা (সাংবাদিক) বের করেন। কোনো লোক বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করুক, সেটা আমরা চাই না। আওয়ামী লীগ সরকার সেটা চায় না।’
এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে চান, দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের সেবা করতে চায়। আওয়ামী লীগ আছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে। এই স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে বারবার আওয়ামী লীগ সরকার দরকার।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।