ঈশ্বরদীতে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দিয়ে মাথায় কাফনের কাপড় পরে প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দেওয়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার রাতের ওই ঘটনায় বিতর্কিত ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে পুলিশ আটক না করে ছেড়ে দেওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিএনপি একাংশের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের একান্ত ঘনিষ্টকর্মী। তার বিরুদ্ধে শহরে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলন ও ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান এবং পাবনা-৪ আসনের এমপি জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের বিরুদ্ধে নানারকম বক্তব্য প্রদান করেন। এসব নিয়ে ঈশ্বরদী শহরে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গত সোমবার বিকেলে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে শর্টগান নিয়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুলভ মালিথাসহ বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একপর্যায়ে শহরের রেলগেটে অবস্থান নিয়ে হাতে থাকা শর্টগান উঁচিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। তার এই পুরো মহড়া নিজের সহযোগিদের দিয়ে ফেসবুক লাইভ প্রচার করেন। এই ঘটনায় শহরে চলাচলকারী জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি প্রদানের লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকরা থানার সামনে জড়ো হতে থাকলে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি অবস্থান ছেড়ে থানায় অবস্থান নেন।

ঘটনার প্রতিবাদে মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকরা থানা গেটে অবস্থান নিয়ে জুবায়ের বাপ্পির শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সেøাগান দেন। রাত ৯টা পর্যন্ত থানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচি চলে। সে সময় তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেøাগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ও ওসি আসাদুর রহমান তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। বাপ্পিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে তারা জানান। কিন্তু রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সদ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তার সন্ত্রাসী জুবায়ের হোসেন বাপ্পি ও সুলভ মালিথাকে দিয়ে আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছেন। এই জন্য আমাকে হত্যার চেষ্টা ও হুমকি প্রদানের বিষয়ে বাপ্পি ও সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ কেন তাকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দিল তা বোধগম্য নয়।

এই বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, অস্ত্রটি জুবায়ের হোসেন বাপ্পির লাইসেন্সকৃত। কিন্তু সে আইন ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে শহরে মহড়া দিয়ে পুলিশকে আইন শেখাতে থানায় এসেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে জনসাধারণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার অপরাধে তার অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’ লিখিত অভিযোগ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি একটি অংশের কয়েক’শ নেতাকর্মী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্নোগান দেয়। সে সময় তারা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ পুলিশের বিরুদ্ধেও সেøাগান দেয়। সে সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, আনোয়ার হোসেন জনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সে সময় পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থানা পরিদর্শনে ছিলেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, বেশ কয়েক বছর থেকে ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। জুবায়ের হোসেন বাপ্পি এক সময় ছাত্র দল করলেও কোনো পদে দায়িত্বশীল ছিল না। ২০২৪ সালের ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সে নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত