বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ নিয়ে মাইকে ডেকে টেঁটাযুদ্ধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সাইনবোর্ডে বাসস্ট্যান্ডের নাম নিজেদের গ্রামের নামে নামকরণকে নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই দল গ্রামবাসীর ‘টেঁটাযুদ্ধে’ আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। এ সময় ২০টিরও বেশি বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের নিয়ন্ত্রণে আকবরনগর-মিরারচর বাসস্ট্যান্ডটি। মুখে মুখে দূর-দূরান্তের লোকজন এটিকে মিরারচর বাসস্ট্যান্ড নামেই ডেকে থাকে। কিন্তু এটি মানতে নারাজ আকবরনগর গ্রামের মানুষ।

এই দ্বন্দ্বে বেশ কয়েক বছর আগে দুই দল গ্রামবাসীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বাসস্ট্যান্ডটির নামকরণ করা হয় ‘আকবরনগর-মিরারচর’ বাসস্ট্যান্ড। এই যৌথ নামেই এত বছর ধরে চলে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের একটি সাইনবোর্ডে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ লেখায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মিরারচর গ্রামের লোকজনের দাবি, আকবরনগর গ্রামের লোকেরা ষড়যন্ত্র করে সড়ক ও জনপথকে ম্যানেজ করে এই কাজটি করেছে। এই সন্দেহ থেকে গত ১০ জুলাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই গ্রামের লোকজন। এতে উভয় গ্রামের শতাধিক লোক আহত হওয়াসহ অর্ধশত দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।

পরে এ নিয়ে ভৈরব থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে এক সালিশ দরবার হয় এবং দুই গ্রামের সংযুক্ত নাম হবে ওই বাসস্ট্যান্ডের নাম এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। কিন্তু সিদ্ধান্ত না মেনে আকবরনগর গ্রামের লোকজন মিরারচরের লোকজনদের বাসস্ট্যান্ড যেতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ মিরারচর গ্রামের লোকজনের।

অপরদিকে আকবরনগর গ্রামের লোকজনদের দাবি, বাসস্ট্যান্ডটি পড়েছে আকবরনগর মৌজায়।

এ নিয়ে গত দুদিন ধরে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার পর গতকাল সকালে যার যার এলাকার মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

অপরদিকে, জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায় টাকা ধার দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে সন্তানসম্ভবা নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় পৌর কাউন্সিলরের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি। পরে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, এ ঘটনায় একপক্ষ মামলা দিয়েছে।