ডিম আমদানির ইঙ্গিত বাণিজ্যমন্ত্রীর

ডিমের বাজারের আগুন নেভাতে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের পর এবার ডিম আমদানির ইঙ্গিত দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় চাইলে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিদিনের খুচরা বাজার দর অনুযায়ী, গতকাল রবিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম ১৫ টাকা; ডজন ১৮০ টাকা।

ডিমের বাজারের এই আগুন নেভাতে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের পর এবার ডিম আমদানির কথা ভাবছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় চাইলে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে রাজি আছি। কিন্তু কী কস্ট হওয়া উচিত, সেটা তো প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানাবে! আমরা যদি বলি, কালকে থেকে ডিম আমদানি করব; প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গ্রিন সিগন্যাল না দিলে আমরা পারব না। মূল ব্যাপারটা তাদের হাতে।’

তিনি বলেন, ‘তারা যদি বলে, এই দাম হওয়া উচিত আমরা বাজার ভোক্তা অধিকার দিয়ে সেই দাম কন্ট্রোল করার চেষ্টা করব। আর যদি না পারে তাহলে আমরা ইমপোর্ট করব। সে ক্ষেত্রেও তাদের সমর্থন লাগবে। এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা দরকার।’

দেশে গত কয়েক দিনে ডিমের দামের রেকর্ড হয়েছে। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যদি ডিম আমদানির অনুমতি চায় সেক্ষেত্রে আমরা ডিম আমদানির অনুমতি দেব।’

পেঁয়াজের দাম যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর দাম কমে আসে, ডিমের ক্ষেত্রেও কী তাই ঘটতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিমের কত উৎপাদন হচ্ছে, বাজারে কত চাহিদা আছে, ঘাটতি কত এ ব্যাপারে মৎস্য মন্ত্রণালয় আমাদের কিছুই জানায়নি। এমনকি ডিমের উৎপাদন খরচ কত এবং কত টাকা দাম নির্ধারণ করা উচিত সেটাও তারা বলেনি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যদি এসব তথ্য আমাদের দেয়, তবে বাজার বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিম আমদানির অনুমতি দেবে।’

টিসিবি পণ্য তালিকায় চাল, ডালের সঙ্গে চিনি না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেশি এবং না পাওয়ার কারণে কিছু দিন চিনি দেওয়া হচ্ছে না। বিকল্প বাজার থেকে চিনি কেনা হয়েছে, আশা করি দ্রুত চিনি দেওয়া সম্ভব হবে।  ভারত থেকে ছয় পণ্যের কোটা সুবিধা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই আমি ভারতে যাচ্ছি। ভারত থেকে ছয়টি পণ্যের কোটামুক্ত আমদানির ক্ষেত্রে আলোচনা বেশ অগ্রসর হয়েছে। আশা করি সুখবর পাব।’

‘এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কাছে আগস্ট মাসের চালসহ টিসিবির পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয়’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রমুখ।

১০০ টাকা কেজি দরে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল, ৩০ টাকা কেজিতে চাল ও ৬০ টাকায় মসুর ডাল বিক্রি করছে টিসিবি।

একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী ৩০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল, ৬০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মসুর ডাল ও ১০০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।