মক্কায় দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১৩ ও ১৪ আগস্ট হওয়া সম্মেলনটি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ৮৫ দেশের দেড় শতাধিক আলেম ও মুফতি অংশ নেন।
সৌদি আরবের ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রণালয় ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে মধ্যপন্থা, সহাবস্থান জোরদার সর্বোপরি ঐক্য ও সংহতি প্রসারের লক্ষ্যে ‘সারা বিশ্বের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মুফতি, মাশায়েখ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি’ শীর্ষক এ সম্মেলন আয়োজন করে।
সাতটি পর্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আলে শায়খ। এরপর বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের প্রধানরা বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ও সিনিয়র স্কলারসের প্রধান শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়খ বলেন, সৌদি আরব সারা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় অনন্য অবস্থান অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মক্কায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ইসলামের উদার ও সহনশীল মনোভাব এবং সহাবস্থানের বার্তা বহন করে এবং ঘৃণা, সহিংসতা, উগ্রতা পরিহারের আহ্বান জানায়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি, পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরের মাওলানা ফজলুর রহিম আশরাফি, ব্রিটেন জমিয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি ড. শোয়াইব আহমেদ মিলিয়ো, অক্সফোর্ডের মেয়র ফায়াদ আহমদ, পাকিস্তানের জমিয়তে আহলে হাদিসের প্রধান শায়খ মুহাম্মদ সাজিদ মির, কলম্বিয়ার ইসলামিক সেন্টারে প্রধান শায়খ মুহাম্মদ রজব আবদুল মুতি আলি মাতার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার গ্র্যান্ড মুফতি ড. হুসাইন কাভাজোভিক, মৌরতানিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আহমদ আল-মুরাবিত আল-শানকিতি, চাদের মুফতি আহমেদ আল-নুর আল-হালু, থাইল্যান্ডের ইসলামবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ নুমসুক, অল ইন্ডিয়া জমিয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি শায়েখ আজগার মাদানি।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক সালাফি।
সৌদি আরবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মদিনার ইফতা গভর্নর শায়খ ড. সালিহ বিন সাআদ আল-সুহাইমি, সৌদি আরবের সিনিয়র স্কলারসের সদস্য শায়খ ড. জিবরিল বিন মুহাম্মদ আল-বাসিলি, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-বাদাহ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মদিনার শায়খ ড. সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আল-রাহিলি, হায়ার ইনস্টিটিউট অব জুডিশিয়ারির শিক্ষক শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন ফাহাদ আল-ফারিহ, শায়খ ড. মুহাম্মাদ বিন উমর বাজমুলসহ মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববির খতিবরা।
সম্মেলন থেকে পবিত্র কোরআনের কপি পোড়ানোকে তীব্রভাবে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করে এ কাজের পুনরাবৃত্তি রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলন থেকে বলা হয়, এই ধরনের কাজ ঘৃণাকে উসকে দেয়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয় এগুলো মানবিক মূল্যবোধের বিরোধিতা করে।
সম্মেলন থেকে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা পাঠ্যক্রমে সংযম ও সহনশীলতার মূল্যবোধের প্রচারে জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি চরমপন্থা এবং নৈতিক অবক্ষয় মোকাবিলার প্রচেষ্টার জন্য তাগাদে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পরিবার সংরক্ষণ, তরুণদের সুরক্ষা এবং মূল্যবোধ ও নীতির প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামকে বিকৃত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সুপারিশ করেন এবং এর সহনশীলতা, সহানুভূতি এবং ন্যায়বিচারের প্রকৃত মূল্যবোধ প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক