হবিগঞ্জের মাধবপুরে শিক্ষকের বেতের আঘাতে এক স্কুলছাত্রের চোখ জখম হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (৪)। সে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই গ্রামের মোতালিব মিয়ার ছেলে। মেহেদী বর্তমানে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত বুধবার বিদ্যালয় চলাকালে সহকারী শিক্ষক মোর্শেদা বেগম দুষ্টুমি করার অভিযোগে শ্রেণিকক্ষে মেহেদী হাসানকে লক্ষ্য করে সজোরে তার হাতে থাকা বাঁশের বেত ছুড়ে মারেন। এটি মেহেদীর ডান চোখে লাগলে সে রক্তাক্ত জখম হয়।
মেহেদী হাসানের বাবা মোতালিব মিয়া জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার ছেলের চোখে অস্ত্রোপচার করেছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা সম্পর্কে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সানজিদা পারভিনেরও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সম্ভাব্য সহায়তার কথাও জানিয়ে এসেছি।’
চৌমুহনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা সহায়তা বাবদ সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে আমি আশ্বস্ত করে এসেছি। শিশুটির চিকিৎসায় যাতে কোনো ত্রুটি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহসান বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।