আর্জেন্টিনার ক্লাবকে নতুন প্রাণশক্তি দিতে চান জামাল

ঘটনাটা আগেই জানা গিয়েছিল। তবে জামাল ভূঁইয়ার স্বীকার করেননি। এ নিয়ে উল্টো করেছেন কত নাটক। তবে শেষ পর্যন্ত সেই শোনা কথাটাই সত্যি হলো। আর্জেন্টিনার ক্লাব সোল ডি মায়োতে যোগ দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক।

শুক্রবার সকালেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩৯ সেকেন্ডের একটা ছোট্ট ভিডিও আপলোড করেন জামাল ভূঁইয়া। সেটা দেখেই পরিষ্কার হয়ে যায় সবকিছু। সেই ভিডিওতে জামালের মেডিকেল পরীক্ষার নানা ধাপ দেখানোর পর বোঝা হয়ে যায় তার নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের এই ক্লাবটিতে। আর রাতে ফেসবুক লাইভে সরাসরি দেখানো হয় আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সঙ্গে তার দেড় মৌসুমের চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তটি।

ফেসবুক লাইভের শুরুতেই দেখা যায় ক্লাবের ৬ নম্বর জার্সি হাতে দেখা যায় জামালকে। এ সময় তার সামনে দুই পাশে ছিল সাজিয়ে রাখা বাংলাদেশের পতাকা। লাইভের শুরুতে উচ্চ স্বরে মিউজিক বাজতেও শোনা যায়। ভাষাগত জটিলতার কারণে অবশ্য সে সময় জামাল নিজের অনুভূতি প্রকাশের জন্য দোভাষীর সাহায্য নেন।

স্প্যানিশ ভাষায় করা প্রশ্নগুলোর উত্তরও জামাল দিয়েছেন সেই দোভাষীর সাহায্যে। শুরুতে ক্লাবের সভাপতি আদেন ভালদেবেনিতো স্বাগত জানান জামালকে। তিনি এ সময় বলেছেন, ‘জামাল এখানে আসায় তাকে অনেক ধন্যবাদ। জামাল এখানে আসায় আমরা খুব খুশি। জামালকে ক্লাবের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা পূরণ করা হবে।’

এ সময় জামালের লক্ষ্য কী, জানতে চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমি এখানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। বাংলাদেশের অনেক মানুষ আমাকে পছন্দ করে, অনুসরণ করে। আমি এখানে আমার দক্ষতা দেখাতে এসেছি। আশা করি, আমি যদি ভালো করি, আরও দুই-তিনজন বাংলাদেশি এখানে আসতে পারবে।’

ক্লাবকে আরেক ধাপ ওপরে নিতে চান জানিয়ে জামাল আরও বলেছেন, ‘আমি ক্লাবকে আমার অভিজ্ঞতা দিতে পারি। আমার বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমি দলে নতুন প্রাণশক্তি দিতে চাই। আমি চাই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সোল দে মায়োকে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে।’

বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার কোনো দলে খেলা বাংলাদেশের যেকোনো ফুটবলারের জন্যই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। আর ৩৩ বছরের জামালের জন্য তো সেটা আরও বড় কিছু। কারণ এখন তিনি পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের শেষভাগে। গেল মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের জার্সিতে হাঁফিয়ে ওঠা জামালের দৃশ্যটা ছিল নিয়মিত। জাতীয় দলেও এখন আর ৯০ মিনিট একটানা খেলার মতো অবস্থানে নেই তিনি।

ক্যারিয়ারের শেষভাগে আর্জেন্টিনার মতো দেশের একটি ক্লাব জামালকে নিয়েছে শুধু বিশ্বকাপে তাদের দেশকে নিয়ে বাংলাদেশিদের আকাশছোঁয়া উন্মাদনা দেখে। সোল ডি মায়ো আসলে গত ফেব্রুয়ারিতেই চেয়েছিল জামালকে দলে নিতে। তবে সে সময় শেখ রাসেল কোনোভাবেই জামালকে ছাড়তে চায়নি। মৌসুম শেষ হওয়ার পর অবশ্য জামাল মুক্ত হয়ে সোল ডি মায়োতে নাম লিখিয়েছেন।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের ক্লাবে খেলার অনন্য রেকর্ড নিজের করে ফেললেন জামাল।