গতকাল শুক্রবার সকালেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩৯ সেকেন্ডের একটা ছোট্ট ভিডিও আপলোড করেন জামাল ভূঁইয়া। সেটা দেখেই পরিষ্কার হয়ে যায় সবকিছু। সেই ভিডিওতে জামালের মেডিকেল পরীক্ষার নানা ধাপ দেখানোর পর বোঝা হয়ে যায় তার নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল ডি মায়ো। আর রাতে ফেসবুক লাইভে সরাসরি দেখানো হয় আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সঙ্গে তার দেড় মৌসুমের চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তটি।
বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার কোনো দলে খেলা বাংলাদেশের যেকোনো ফুটবলারের জন্যই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। আর ৩৩ বছরের জামালের জন্য তো সেটা আরও বড় কিছু। কারণ এখন তিনি পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের শেষভাগে। গেল মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের জার্সিতে হাঁফিয়ে ওঠা জামালের দৃশ্যটা ছিল নিয়মিত। জাতীয় দলেও এখন আর ৯০ মিনিট একটানা খেলার মতো অবস্থানে নেই তিনি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে আর্জেন্টিনার মতো দেশের একটি ক্লাব জামালকে নিয়েছে শুধু বিশ্বকাপে তাদের দেশকে নিয়ে বাংলাদেশিদের আকাশছোঁয়া উন্মাদনা দেখে। সোল ডি মায়ো আসলে গত ফেব্রুয়ারিতেই চেয়েছিল জামালকে দলে নিতে। তবে সে সময় শেখ রাসেল কোনোভাবেই জামালকে ছাড়তে চায়নি। মৌসুম শেষ হওয়ার পর অবশ্য জামাল মুক্ত হয়ে সোল ডি মায়োতে নাম লিখিয়েছেন। যদিও শেখ রাসেল দাবি করছে, জামাল মৌসুম শেষ হওয়ার ১০ দিন আগে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক চুক্তি করেছেন পরের মৌসুমের জন্য। তার প্রমাণাদিও সংবাদমাধ্যমকে দিয়েছে ক্লাবটি। তবে দলবদল শুরুর পর বাফুফে প্রেরিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেননি জামাল। ফলে শেখ রাসেলের দাবিটা ভবিষ্যতে ধোপে টেকার কথা নয়। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে জামাল শেখ রাসেলের সঙ্গে যেটা করেছেন, তা নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। এ নিয়ে অবশ্য জামালেরও অভিযোগ রয়েছে। শেখ রাসেল যে আগের চুক্তি অনুযায়ী এক মাসের বেতন দেয়নি তাকে। ক্লাবটির দেওয়া চেক দুবার ব্যাংক থেকে ফেরত এসেছে।
এদিকে আর্জেন্টাইন ক্লাবে চুক্তি করায় জামালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের আসন্ন ফিফা প্রীতি ম্যাচ ও এশিয়ান গেমসে খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে। এর মধ্যেই জামাল বাফুফের কাছে আর্জেন্টিনা থেকে জাতীয় দলে খেলার জন্য বিমান টিকিট চেয়েছেন। যদি এই শর্তে বাফুফে রাজি হয়, তবে জামালের পেছনেই বছরে একটা বড় অঙ্কের বাজেট রাখতে হবে বাফুফেকে। আর এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলো যেহেতু ফিফার টায়ার-১ ম্যাচ নয়, সে ক্ষেত্রে সোল ডি মায়ো বাধ্য নয় তাকে সেই খেলার জন্য ছাড়তে। কারণ চীনের হ্যাংঝু শহরে যখন এশিয়ান গেমস চলবে, সেই সময়ে ক্লাবটিরও বেশ কিছু ম্যাচ থাকবে ঘরোয়া লিগে।
২০১৮ জাকার্তা এশিয়াডে জামালের অসাধারণ গোলেই কাতারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় পর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সেবারের মতো এবারও জামালকে এশিয়াডে দলে রাখা হয়েছিল সিনিয়র কোটায়। শেষ পর্যন্ত জামালের এশিয়ান গেমসে খেলা হয় কি না তা সময়ই বলে দেবে। একই সঙ্গে টিকিটের শর্ত মেনে জামালকে জাতীয় দলেও আর খেলানো হবে কি না, সেটাও ছেড়ে দিতে হচ্ছে সময়ের হাতে।
সে যা-ই হোক, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের ক্লাবে খেলার অনন্য রেকর্ড নিজের করে ফেললেন জামাল।