ঋণের চাপে সাত মাস আগে নেত্রকোনা কলমাকান্দার ব্যস্তপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে গরু ব্যবসায়ী রমজান আলী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এরপর মৃত ছেলের ঋণ পরিশোধে বাবার কাছে পাওনাদারদের চাপ আসতে থাকে। এমনকি অনেক পাওনাদার ঋণ পরিশোধ না করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অবশেষে গত শনিবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে মহাদেও নদীর দক্ষিণ পাড়ে অজ্ঞান অবস্থায় আবুল হোসেনকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করেন। রাত ২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে আবুল হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে রহস্য। পরিবারের দাবি, তার ডান হাতের মাংসপেশিতে সুইয়ের দাগ দেখা গেছে।
আবুল হোসেনের ভাতিজা তরিকুল ইসলাম জানান, সাত মাস আগে তার চাচাতো ভাই রমজান আলী ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। ছেলের ঋণ করা অর্থের জন্য চাচাকে স্থানীয় কাজল মিয়া, ইমান আলী, ইসমাইল, সাত্তার, সফি মিয়া, ইলিয়াসসহ বিভিন্ন লোকজন বাজারে ও রাস্তাঘাটে ঋণ পরিশোধে চাপ প্রয়োগ করতেন। গত শনিবার দুপুরের দিকে বরুয়াকোণা বাজারে ছেলের ঋণ পরিশোধ না করলে মেরে ফেলারও হুমকি দেন পাওনাদাররা। পরে বাড়িতে এসে চাচা আবুল হোসেন তার ছোট ভাই মজিবুর রহমানের কাছে বলেছিলেন, ছেলের দাফনের সময় অনেকে পাওনা টাকা মাফ করে দিয়েছিলেন। এখন তারাই টাকা ফেরত না দিলে হুমকি দিচ্ছেন।
তরিকুল আরও জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে সতেরহাটি গুদারাঘাটে আবুল হোসেনসহ তারা অনেকে চা পান শেষে চায়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেলে যে যার মতো বাড়িতে চলে আসেন। আবুল হোসেনও বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্ত্রী আমেনা আবুল হোসেনকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন বাড়ির উত্তরে আধা কিলোমিটার দূরে মহাদেও নদীর দক্ষিণ পাড়ে আবুল হোসেনকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আবুল হোসেনের ডান হাতের কনুইয়ের দুই-তিন ইঞ্চি উপরের মাংসপেশিতে সুইয়ের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেছে। মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’