পরকীয়া সম্পর্ক জেনে ফেলায় ছেলেকে হত্যা, মায়ের মৃত্যুদণ্ড

ভাড়াটিয়া লোকদের মাধ্যমে চাঁদপুরের হাইমচরে ছেলেকে হত্যার অপরাধে মা খুকি বেগমসহ দু’জনে মৃত্যুদণ্ড ও দু’জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন মো. জয়নাল গাজী (২৪)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ইউছুফ মোল্লা (২৭) ও মাহবুব মোল্লা (২৬)। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়।

বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) ফারহানা ইয়াসমিন এই রায় দেন। হত্যার শিকার আরিফ হোসেন (২৫) জেলার হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের মিজানুর রহমান খান এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত খুকি বেগমের ছেলে।

জানা যায়, হত্যার শিকার আরিফ হোসেন তার মা খুকি বেগমের সাথে আসামি জয়নাল গাজীর পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতেন। এর জন্য খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর ছেলের বউ আসমাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর ১৮ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে মা খুকি বেগম নিজ বাসায় পরকীয়া প্রেমিক জয়নাল গাজী ও সহযোগিদের দিয়ে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ঘরের মেঝেতে ফেলে চলে যায়। পর দিন ১৯ নভেম্বর সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানায় ডাকাতরা আরিফকে জখম করে ফেলে গিয়েছে। আসমা তাৎক্ষনিক স্বামীর বাড়িতে চলে আসে এবং আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ঢাকা নেয়ার পথে মতলব ফেরিঘাটে পার হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে আরিফের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওইদিনই আসমা শ্বাশুড়ী খুকি বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
এই মামলাটি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় হাইমচর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুর মিয়াকে। তিনি মামলাটি দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

মামলার সরকার পক্ষের আইজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বদিউজ্জামান কিরন জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড। মায়ের পরকীয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটে। মামলাটি দীর্ঘ ৭ বছরের অধিক সময় চলাকালীন সময়ে আদালত ২০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন। আসামিদের মধ্যে ইউছুফ মোল্লা প্রথম থেকে পলাতক। বাকিরা জামিনে থাকলেও রায়ের সময়ে সকল আসামির অনুপস্থিতিতে রায় হয়।