ফরিদপুরে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। অথচ, জেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই যেন হয়ে উঠেছে এডিস মশার প্রজননস্থল। হাসপাতালের যেখানে-সেখানে রাখা হয়েছে ময়লার স্তুপ। তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এসব স্থানে মশার বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোগীরা।
রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে গেলেও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে প্রতিদিনই কয়েকশ’ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে মশা নিধনে কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নানা উপদেশ দিলেও নিজেরাই মানছেন না। উল্টো হাসপাতালটির আশপাশে ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের নির্বিঘ্ন স্থান তৈরি করা হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও দায়সারা কাজ করেন। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ওয়ার্ড বয় ও আয়াদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তার স্বজনরা জানান, যে হাসপাতালে শত শত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেখানেই যদি ডেঙ্গু মশা বংশ বিস্তারের সুযোগ পায়, তাহলে সেটা অপ্রত্যাশিত। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বললে তারা লোকবল সংকটের অজুহাত দেখান। আবার কর্মচারীরা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করেন। পরিচ্ছন্নতার পরিবর্তে কর্মীদের কেউ কেউ রোগীদের ট্রলি টেনে টাকা নিচ্ছেন। টাকা না দিলে ট্রলির সেবা না দেওয়ার অভিযোগ আছে।
এসব বিষয়ে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. এনামুল হক বলেন, আমাদের হাসপাতাল নিয়মিতই পরিষ্কার করা হয়। অপরিষ্কার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রোগীরা ওষুধের প্যাকেট, খাবারের অবশিষ্টাংশ ও নানা ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলেন। যে কারণে মাঝেমধ্যে আমাদের কিছুটা সমস্যা পোহাতে হয়। তবে রোগী ও তাদের স্বজনদের একটু সচেতনতা এ সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া ছাড়পত্র নেওয়ার সময় রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।