ঘরের মাঠে সেরায় চোখ কিংসের

গ্রুপ প্রতিপক্ষ কারা, তা আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস জেনেছে এএফসি কাপের গ্রুপপর্বে কোথায়, কার সঙ্গে, কখন কখন খেলা। প্রতিপক্ষ জানার মতো লক্ষ্যটাও আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে টানা চারবারের প্রিমিয়ার লিগজয়ীরা। আগের দুবার খুব কাছে গিয়েও গ্রুপসেরা হওয়া যায়নি। তবে এবার গ্রুপপর্বে পেরিয়ে তারা চোখ রাখছে ইন্টার-জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে। তার জন্য হতে হবে গ্রুপসেরা। সেই লক্ষ্যপূরণে তাদের পেছনে ফেলতে হবে ভারতের মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস, ওড়িষা এফসি ও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবকে।

আগের দুবার কিংসের চেষ্টা থমকে যায় মোহনবাগান বাধায়। করোনা মহামারীর কারণে গেল দুবারই গ্রুপপর্ব হয়েছে সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুতে। ২০২১-এ মালেতে এবং গত বছর কলকাতায় হয় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ডি গ্রুপের খেলা। দুবারই কিংসকে পেছনে ফেলে মোহনবাগান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। এবার অবশ্য আগের ফরম্যাটে ফিরেছে গ্রুপপর্ব। হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে নিয়মে। অর্থাৎ বাগান, মাজিয়া, ওড়িষার মাঠে গিয়ে যেমন কিংসকে খেলতে হবে, ঠিক তেমনি নিজেদের মাঠ কিংস এরেনায় প্রতিপক্ষদের আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ সেরারা। ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিংস দেখছে পরের ধাপে খেলার স্বপ্ন।

গতকালের ড্র অনুযায়ী বসুন্ধরা কিংসের প্রথম ম্যাচ মাজিয়ার বিপক্ষে মালেতে ১৮ অথবা ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর ভারতের সুপার কাপজয়ী ওডিষা এফসিকে বসুন্ধরা কিংস আতিথ্য দেবে ২ বা ৩ অক্টোবর। ২৩ বা ২৪ অক্টোবর ভারতে গিয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের। ৬ বা ৭ নভেম্বর বাগান আসবে কিংস এরেনায় খেলতে। এরপর ২৭ বা ২৮ নভেম্বর নিজের মাঠে মাজিয়ার বিপক্ষে খেলে কিংস ১১ বা ১২ ডিসেম্বর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলতে যাবে ওডিষার মাঠে। গ্রুপের সেরা দলটি পাবে ইন্টার-জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে টিকিট।

কিংস এরেনায় খেলার সুযোগটাই বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানকে স্বপ্নচারী করে তুলেছে, ‘আমার বিশ্বাস এবার ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলব। আগের দুবার আমাদের দেশের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। এবার হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে হওয়ায় আমরা হোম অ্যাডভান্টেজ পাব। মন বলছে মোহনবাগানকে ঘরের মাঠে হারাব এবং তাদের মাঠে ড্র করব। আর অন্য দুটি দলকে দুইপর্বেই হারিয়ে গ্রুপসেরা হব।’

এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে সারজাহ এফসির কাছে ২-০ তে হারায় কিংসকে এএফসি কাপের গ্রুপপর্বে ফিরতে হয়েছে। এসিএল প্লে-অফে খেলা ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখেই গ্রুপপর্বে সেরা হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, ‘মোহনবাগান কিন্তু আগের দুই বারের চেয়েও ভালো দল গড়েছে। অনেক ভালো ভালো ফুটবলার আছে তাদের। তবে এটাও ঠিক, আমরাও ছয় বিদেশি নিয়ে অনেক শক্তিশালী দল। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে আমরা এখনো কোনো ম্যাচ হারিনি। এটাই আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। বাগান যত ভালো দলই হোক না কেন, এবার আমরা ঘরের মাঠে তাদের হারাব। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের ফলে এবার ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। তাই আমি মনে করি আগের দুবার অল্পের জন্য গ্রুপসেরা হতে না পারার কষ্টটা এবার আমরা ঘোচাতে পারব।’

নিজেদের হোম কিংস এরেনায় না হারার রেকর্ড যেমন সাহস জোগাচ্ছে, ঠিক তেমনই তপুদের বিশ্বাস নিজেদের দর্শকদের অনুপ্রেরণায় তারা খেলেত পারবে ভয়ডরহীন ফুটবল। তাছাড়া এই মাঠেই আগামী ৪ ও ৭ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান দলের বিপক্ষে জাতীয় দল দুই ম্যাচের সিরিজ খেলবে। এএফসি কাপের আগে এই দুটি ম্যাচও দারুণ সহায়ক হবে বলে মনে করেন তপু, ‘জাতীয় দলের সাম্প্রতিক মূল একাদশে যদি চোখ রাখেন, দেখবেন বেশিরভাগই আমরা কিংসের খেলোয়াড়। জাতীয় দলের সঙ্গে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সামনে সিরিজ তাই আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’

এসিএল-এর প্লে-অফ খেলে আসার পর ছুটি কাটিয়ে প্রাথমিক জাতীয় দলে ডাক পাওয়া কিংসের খেলোয়াড়রা আজ যোগ দিচ্ছেন হাভিয়ের কাবরেরার ক্যাম্পে। জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ অবশ্য চার দিন আগেই আফগানবধের প্রস্তুতি শুরু করেছে কিংস এরেনায়।