তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে

উজানে ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার সমান দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার সন্ধ্যা ৬টায় তা আরো বেড়ে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজানে ভারী বর্ষণ ও ভারতের গজলডোবায় তিস্তাার পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় উজানের পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। পানির গতি নিয়ন্ত্রনে ব্যারাজের ৪৪টি গেইট খুলে দিয়েছে কতৃর্পক্ষ। অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় পানি আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তিস্তা পাড়ের মানুষজন জানায়, পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিগুলোতে পানি উঠে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর সংখ্যা আস্তে আস্তে বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিস্তার পানিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিংঙ্গীমারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালমাটি, পলাশী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার গোবরর্দ্ধন এলাকার আজাদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে পানি বাড়ছে তিস্তায়। নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত, রাস্তা—ঘাট।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা—উদ—দৌলা বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে। ব্যারাজের সবকটি গেইট খুলে পানির গতি নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উজানের বৃষ্টিপাত কমে না আসা পর্যন্ত পানি প্রবাহ কমার কোন সম্ভাবনা নেই।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সব রকমের প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।