পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর গহিনখালী খালের ওপরের লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এই সেতুটি গত ২৩ আগস্ট ভোরে ভেঙে পড়ায় গহিনখালী ও সদর ইউনিয়নের পূর্ব বাহেরচর এলাকার মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেতুটি ভেঙে খালে পড়ায় ওই খাল দিয়ে জেলেদের ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। আর এতে দুর্ভোগে পড়েছেন খালের দুই পাড়ের মানুষ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে নির্মাণের পর এক বছরের মধ্যেই একটি ট্রলারের ধাক্কায় সেতুটি কাত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায়ও ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন চলাচল করত। লোহার এই সেতুটির পাটাতন কংক্রিটের ঢালাই করা ছিল।
গহিনখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল বারেক জানান, তার স্কুলে ২০৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে সেতুর পূর্ব পাড়ের গহিনখালীর একটি অংশের ও পূর্ব বাহেরচর এলাকার অন্তত ২০টি শিশু রয়েছে। সেতু ভেঙে পড়ায় আমরা ও অভিভাবকরা মিলে একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকার ব্যবস্থা করেছি। এখন শিশুরা ওই নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করছে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি।
সেতুসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাহামুদ হাসান বলেন, সেতু ভেঙে পড়ায় এলাকাবাসী ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদর, গহিনখালী লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় জেলে হারুন মাঝি বলেন, বুড়াগৌরাঙ্গ নদে জেলেরা নৌকা ও ট্রলারে করে নদে মাছ ধরে এই খাল দিয়ে উপজেলার বাহেরচর বাজারে আসা-যাওয়া করে। এছাড়া উপজেলা সদর থেকে পণ্য নিয়ে এই খাল দিয়ে চর মোন্তাজ ইউনিয়নে যাতায়াত করত। সেতু ভেঙে খালে পড়ে থাকায় এই নৌপথটি বন্ধ হয়ে আছে। এ অবস্থায় সেতুর ভেঙে পড়া অংশ খাল থেকে অপসারণ করে নৌপথটি সচল করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কামাল পাশা বলেন, ‘দুই পাড়ের মানুষের সহজ যোগাযোগের জন্য ২০১৩ সালে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি ভেঙে পড়ায় দুই পাড়ের বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সেতু নির্মাণ ও খাল থেকে সেতুর ভাঙা অংশ অপসারণ করার জন্য এলজিইডি প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি।’
এ ব্যাপারে এলজিইডি রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, আসলে সেতুটি অনেক পুরনো। এর আগে মেরামত হয়নি। ট্রলারের ধাক্কায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। নতুন করে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।