বিজয়কে এভাবে ফেরানো অদূরদর্শিতা

এ মাসের শুরুতে জাতীয় দলের চিন্তায় থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হয় অনুশীলন ক্যাম্প। সেখানে ছিলেন ৩২ জন। সেই তালিকায় ছিলেন না এনামুল হক বিজয়। গুজব ওঠে দুঃখে অবসর নিয়ে নেবেন এই ব্যাটার। গুধজবটা সত্যি ছিল না, সত্যি হলে আজ বিজয় কি শ্রীলঙ্কায় থাকতেন!

জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ৩২ জনের বাইরের হয়েও বিজয় এখন দলের সদস্য। যেভাবে বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্প থেকে তাকে টেনে নেওয়া হলো তাতে আজ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে একাদশে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশাল তালিকার বাইরের একজনকে হঠাৎ প্রয়োজন হওয়ার বিষয়কে বর্তমান জাতীয় দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অদূরদর্শিতা বললেন সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তার প্রশ্ন বিজয়কে যদি দরকারই হয় তবে ৩২ জনের ক্যাম্পে রাখা হয়নি কেন?

এশিয়া কাপ শুধু নয় বিশ্বকাপের জন্যও প্রস্তুত থাকতে ৯ ক্রিকেটার নিয়ে আলাদা ক্যাম্পের আয়োজন করে বিসিবি। ওই ক্যাম্পে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব,. খালেদ আহমেদ ও জাকির হাসান আছেন। এশিয়া কাপের দল ঘোষণার পর এবাদত হোসেন ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ায় সুযোগ হয় এই ক্যাম্পে থাকা পেসার সাকিবের। অবশ্য সাকিব এশিয়া কাপের স্ট্যান্ডবাই তিনজনের একজন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বদলি ক্রিকেটার এই ক্ষেত্রে নিয়মের মধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লিটন দাসের অসুস্থতায় তার বদলি বিজয়কে নিয়মের মধ্যে নেওয়া হলো কই?   

লিটন অসুস্থ হওয়ায় এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারবেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ সেপ্টেম্বর তার পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল। লিটনের জন্য অপেক্ষার কথা বলেছিলেন টিম ম্যানেজমেন্ট সংশ্লিষ্টরা। অথচ কাল দিনের শুরুতে বিজয়ের এশিয়া কাপ দলে অন্তর্ভুক্তি অবাক করেছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক ফারুক আহমেদ অবাক হননি। দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া এখন খুবই জটিল হয়ে উঠেছে। যে কারণে কখন কী হয় সেটা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। তাই এমন সিদ্ধান্তে আমি অবাক হইনি।’

লিটনের বদলি বিজয়ের ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিনের ব্যাখা ছিল, ‘বিজয় ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক রান করেছে। তাকে আমরা বাংলা টাইগার্সের ক্যাম্পে রেখে মনিটর করেছি।’ সাবেক নির্বাচক ফারুকের প্রশ্ন, ‘বিজয় খারাপ ক্রিকেটার না, ভালো ক্রিকেটার; কিন্তু সে যদি ভালো হয় তাহলে প্রথম অবস্থায় ক্যাম্পে থাকা উচিত ছিল অবশ্যই। এখন তাকে ক্যাম্পের বাইরে থেকে আনা সেটা ভুল কিছু না। কিন্তু যদি আনতেই হয় তাহলে তাকে ক্যাম্পে রাখা হয়নি কেন? তার মানে সিদ্ধান্ত আগে ভুল ছিল বা এখন ভুল হচ্ছেÑ যে কোন্ োএকটা। এটা দূরদর্শিতার অভাব। এসব ক্ষেত্রে অনেক কিছুই আগে থেকে চিন্তা করতে হয়।’

এছাড়া নান্নু আরও জানিয়েছেন, একজন টপঅর্ডার কিপার ব্যাটারকে প্রয়োজন দলের। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপের জন্য বিশেষ ক্যাম্পে থাকা জাকির হাসান ছিলেন প্রস্তুত। কিন্তু এই বাঁহাতি ব্যাটারকে নিয়ম মেনে ডাকা হয়নি। এমন নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এখন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাখ্যার অভাব থাকে বলেই এত জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগে যেমন আমার সময় বোঝা যেত যে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো, এই দলের সঙ্গে ভালো, এই কন্ডিশনে সে ভালো এমন কিছু প্রক্রিয়া মেনে ক্রিকেটার নির্বাচন করতাম। কিন্তু এখন কিছু বোঝা যায় না, হঠাৎ মনে হলো ওকে নাও, হঠাৎ মনে হলো ওকে বাদ দিয়ে দাও। যেহেতু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনেকজন যুক্ত তাই মতামতও অনেক হয় তাই নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া নেই। যার যখন ক্ষমতা থাকে সে সেটাই করে। এই দূরদর্শিতার অভাব চিন্তা করেই আমি ২০১৬ সালে টু-টায়ার নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে পদত্যাগ করেছিলাম।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বাম-ডান তত্ত্ব একদম মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এ কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডুবতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ডানহাতি লিটনের বদলি হিসেবে ডান হাতি ওপেনার বিজয়কে ডাকা সেই ইঙ্গিত মনে হচ্ছে। এমন যদি হয় তবে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তানজিদ হাসান তামিম দুই বাঁহাতি ওপেনারের সামর্থ্যে আস্থা রাখা হলো কই। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঠিক ক্যাটাগরি কীÑ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।