থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালোঙকোর্ন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কারাদণ্ড আট বছর থেকে কমিয়ে মাত্র এক বছর করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তার সাত বছরের দণ্ড মওকুফ করা হল।
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার একটি রাজকীয় গ্যাজেটে থাকসিনের কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘থাকসিন সিনাওয়াত্রা তার অপরাধ স্বীকার করে রাজার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এজন্য অনুশোচনাও করেছেন। রাজা ভাজিরালোঙকোর্ন তার অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। তার আট বছরের সাজা কমিয়ে মাত্র এক বছর করেছেন। এই এক বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গেজেটে রাজকীয় ক্ষমা অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় এ সময় তার বয়স ও ‘অসুস্থতার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাজা পুরো বাতিল হওয়ার প্রত্যাশা ছিল সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর।
থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিভাজনের রাজনীতির প্রবর্তক হিসেবে দেখা হয়। তার ক্ষমতাসীন দল ফিউ থাই পার্টির বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ তুলে ২০০৬ ও ২০১৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী।
এ সময় থাকসিনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ তোলা হয়। এ অপরাধে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ কারাদণ্ড থেকে রেহাই পেতে এর দুবছর পর দেশ ত্যাগ করেন তিনি। তখন এ কারাদণ্ডের বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিযোগ করেন থাকসিন।
১৫ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত সপ্তাহে (২২ আগস্ট) দেশে ফেরেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত প্লেন থেকে থাইল্যান্ডে নামার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওইদিন রাতেই বুকে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় হাসপাতালের একটি অভিজাত শাখায় স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, থাকসিন থাইল্যান্ডে ফিরে আসার কয়েক ঘণ্টা পরই তার নিজ দল ফিউ থাই পার্টির নেতা স্রেত্থা থাভিসিন দেশটির সংসদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাকে সমর্থন জানান সেনা সমর্থিত আইনপ্রণেতারাও। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে থাকসিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে আপোষ করেছেন।